Published : 30 Apr 2026, 09:10 PM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে দুই দফা ভোটগ্রহণ শেষে অধিকাংশ বুথফেরত জরিপে বিজেপির এগিয়ে থাকার খবরের মধ্যে মুখ খুলেছেন রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
তার দাবি, বিজেপি টাকা দিয়ে বুথফেরত জরিপ দেখাতে ‘বাধ্য’ করেছে। ২৯৪ বিধান সভা আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য ২২৬টিতে তৃণমূলই ‘জিতবে’ বলে তিনি ‘নিশ্চিত’।
বৃহস্পতিবার নিজের ফেইসবুক পেইজে এক ভিডিও বার্তায় মমতা বলেন, “আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে চাই, যেটা টিভিতে দেখাচ্ছে বিজেপি অফিস থেকে, কালকে (বুধবার) বেলা ১টা ০৮ মিনিটে সার্কুলেট করেছে। টাকা দিয়ে বলেছে, যেন এটা লেখানো হয়।
“তার কারণ হচ্ছে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য এসেছে ১টা ৮ এ। আমি কোনো একটা প্রেস মিডিয়ার মাধ্যমে পেয়েছি। সেই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, তারা ফোর্সফুলি বলছে, ‘তোমাকে করতে হবে এটা’।”
১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় থাকা ‘দিদি’ বলেন, “কারণটা আসলে জানেন আপনারা? আমরা ২৩০-ও (আসন) পেয়ে যেতে পারি। ২২৬ অতিক্রম করব ২০২৬-এ। মানুষ যে বিপুলভাবে ভোট দিয়েছে তাদের প্রতি আমার পুরো ভরসা, বিশ্বাস, আস্থা আছে।”
নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের বাহিনীর ‘যৌথ অত্যাচার’ তৃণমূল কর্মীদের সহ্য করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী।
ভোটার ও দলের কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “এত রোদের মধ্যেও, সবকিছু অত্যাচার সহ্য করেও আপনারা যেভাবে ভোট দিয়েছেন লাইনে দাঁড়িয়ে, আপনাদের কাছে আমরা খুব কৃতজ্ঞ।
“আমি আমার কর্মীদের কাছেও খুব কৃতজ্ঞ, যারা জীবনপন লড়াই করে, অনেক অত্যাচার সহ্য করে, সেন্ট্রাল ফোর্স এবং এখানকার ফোর্স সবার যৌথ অত্যাচার সহ্য করেও, পুরো সরকার যন্ত্র- প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে এবং ১৯টা রাজ্যের বিজেপি নেতাদের, অর্থভাণ্ডার, শক্তির ভাণ্ডার, বন্দুকের ভাণ্ডার নিয়ে যারা বাংলার মানুষকে জব্দ করতে চেয়েছিলেন, জব্দ তারাই ভোট বাক্সে হয়ে গেছে।”
মমতা বলেন, “বিজেপি তো ইডি, সিবিআই সকলকেই চমকায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী যে ব্যবহার গতকাল (বুধবার) করেছে, নতুন যে সমস্ত পুলিশ নিযুক্ত হয়েছিলেন, যারা আমার হাতে ছিলেন না, তারা মেয়েদের মেরেছেন। বাচ্চাদের মেরেছেন। উদয়নারায়ণপুরে যে ভদ্রলোক ভোট দিতে গিয়ে মারা গেলেন, তার শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার নেই। ওই পরিবারের পাশে আমরা থাকব।’’
তার ভাষ্য, তৃণমূলের কর্মীরা ‘একতরফা’ মার খেয়েছেন, তবু এলাকা ছেড়ে যাননি। অনেককে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কয়েকটি কেন্দ্রের নাম উচ্চারণ করে মমতা বলেন, “আমাদের কর্মীদের মেরেছে, যাতে তারা এজেন্ট হিসাবে কাজ করতে না পারেন। বিশেষ করে ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দল। আমাদের এখানে ভবানীপুরেও সারা রাত রেইড (তল্লাশি) হয়েছে। আমি দুদিন ঘুমোইনি।”
বুথফেরত জরিপের ফলের দিকে ইঙ্গিত করে মমতা বলেন, “বিজিপি প্রেসকে দিয়ে শেষ খেলাটা খেলেছে। কারণ উল্টো পাল্টা বলে যেন আমাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে যায়। আসল সত্যটা বের হলে শেয়ারবাজারে ধস নামবে। সেজন্য শেয়ারবাজারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে, আমার কাছে সুনির্দিষ্ট খবর আছে, এর জন্য এটা করেছে।
“আমি পরিষ্কার বলছি ২০১৬-তেও একই জিনিস হয়েছে, ২০২১-এও একই জিনিস হয়েছে। ওরা বুথফেরত জরিপ যা দেখিয়েছে তার পুরোটাই দেখিয়েছে বিজেপির কথায়।”
ভারতে বর্তমানে ‘নিরপেক্ষতা বলে কিছু নেই’ বলেও দাবি করেন মমতা, বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
বুধবার রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরই সন্ধ্যা থেকে বুথফেরত জরিপের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। অধিকাংশ জরিপেই ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসছে বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ বিধানসভা আসনের সরকার গড়তে প্রয়োজন নূনতম ১৪৮টি আসন। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা যায়, বিজেপি ১৫০ পেরিয়ে গিয়েছে।
পুরনো খবর-
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বুথ ফেরত চারটি জরিপে বিজেপি'র জয়ের আভাস