Published : 27 Jul 2026, 10:46 PM
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদ এবং শহরের বাস টার্মিনাল সংলগ্ন চত্বরে তা পুনঃস্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিরা সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর তারা জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপন এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঢাকা থেকে আসা কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি ভাস্কর্যের স্থান বাস টার্মিনাল সংলগ্ন চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানেই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের জেলা সমন্বয়ক সেহাল আহম্মেদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, জতীয় গণফ্রন্ট্রের কেন্দ্রীয় নেতা অজিজুর রহমান জালাল, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান, জেলা সিপিবির সভাপতি স্বপন বাগচি।
সমাবেশে বক্তারা ভাস্কর্য ভাঙার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি ভাঙার কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমা করবে না।
একই স্থানে ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপনের দাবি করে বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, বর্তমান সরকার যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দাবি করে তাই তাদের উচিত মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত স্থাপনা রক্ষা করা।
মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী ঝিনাইদহের সন্তান হামিদুর রহমানের স্মরণে শহরের প্রবেশ পথে একটি বেদীতে এই ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা আর শেষ হয়নি।
২০১২ সালে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল করিম মিন্টু পৌরসভার মেয়র থাকাকালে মাগুরা সড়কের চার রাস্তা মোড়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩২ লাখ টাকা।
তবে কাজ শুরু হয় অনেক দিন পর। ২০১৬ সালে কিছু কাজ করার পর সেটি অসমাপ্ত থাকে। ভাস্কর্যটি আর উদ্বোধন হয়নি। সেভাবেই পড়ে ছিল।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওইদিন বিকালে শত শত লোক এসে ভাস্কর্যটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এরপর ১৫ জুলাই থেকে কিছু শ্রমিক সেটি ভাঙার কাজ আবার শুরু করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।
এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সমালোচনার মধ্যে ১৯ জুলাই থেকে ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়।
আরও পড়ুন:
সমালোচনার মুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিত
৫ অগাস্টের পর হামলার শিকার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ফের ভাঙা হচ্ছে