থাইল্যান্ডে মাদকবিরোধী অভিযানে মেলে ‘মিয়ানমারের জান্তাপ্রধানের ছেলে-মেয়ের সম্পদ’

মিয়ানমারের এক ধনী ব্যবসায়ীর ব্যাংককের এক অ্যাপার্টমেন্ট থেকে মিন অং হ্লাইংয়ের মেয়ে ও ছেলের নামে থাকা সম্পত্তির দলিল ও ব্যাংকের নথি মিলেছে, বলেছেন থাইল্যান্ডের এক কর্মকর্তা ও ঘটনা সম্বন্ধে জ্ঞাত দুই ব্যক্তি।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Jan 2023, 11:48 AM
Updated : 11 Jan 2023, 11:48 AM

মাদক ও মুদ্রাপাচারে অভিযুক্ত মিয়ানমারের এক ধনী ব্যবসায়ীর ব্যাংককের এক অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালানোর সময় থাইল্যান্ডের কর্মকর্তারা সেখানে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধানের দুই প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে থাই এক কর্মকর্তা ও ঘটনা সম্বন্ধে অবগত দুই ব্যক্তি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষদিকে তু মিন লাতকে গ্রেপ্তারের সময় তার ব্যাংককের বাড়ি থেকে মিন অং হ্লাইংয়ের মেয়ে ও ছেলের নামে থাকা সম্পত্তির দলিল ও ব্যাংকের নথি মিলেছে, জানিয়েছেন তারা।

৫৩ বছর বয়সী লাতের সঙ্গে আরও তিন থাই নাগরিককে মাদক পাচারের ষড়যন্ত্র ও মুদ্রাপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

হোটেল, জ্বালানি ও খনি ব্যবসায়ী লাত ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা জান্তাপ্রধান হ্লাইংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে গত বছরের শেষদিকে রয়টার্সকে বলেছিল তিনটি সূত্র।

লাত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর জন্য দরকারি সরঞ্জামও কেনেন।

মিয়ানমারের এই ধনী ব্যবসায়ী এখন থাইল্যান্ডে বিচারপূর্ব আটকাদেশ ভোগ করছেন, তার আইনজীবীর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাদকবিরোধী ওই অভিযানে সম্পদের নথি মিললেও হ্লাইংয়ের দুই সন্তানের বিরুদ্ধে থাই কর্তৃপক্ষ কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানিয়েছেন দুই ব্যক্তি। থাই কর্তৃপক্ষ লাতের বিরুদ্ধে তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতাকে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচনাও করেনি।

জান্তাপ্রধানের ছেলে অং পায়ে সোনে ও মেয়ে খিন থিরি থেট মন তাদের বাবার মতোই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নিষেধাজ্ঞায় আছেন।

থাইল্যান্ডকাণ্ডে রয়টার্স মন্তব্য চাইলেও তাদের দিক থেকে সাড়া মেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, হ্লাইংয়ের দুই সন্তান বাবার অবস্থান ও নোংরা হস্তক্ষেপের সরাসরি সুবিধা কাজে লাগিয়ে ব্যবসায় লাভবান হচ্ছেন।

হ্লাইংয়ের কাছে এ প্রসঙ্গে মন্তব্য চাইতে পারেনি রয়টার্স; মিয়ানমারের সামরিক জান্তার কাছে মন্তব্য চেয়ে একাধিক বার্তা পাঠানো হলেও তারাও জবাব দেয়নি।

ব্যাংককের বেলে গ্র্যান্ড রামা ৯ এর ওই ফ্ল্যাটে সেপ্টেম্বরের শেষদিকের অভিযানে বিলাসবহুল গাড়ি, ঘড়ি ও দামি ব্যাগ এবং নগদ ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯১ ডলারসহ মোট ৮৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সেখান থেকে ২০১৭ সালে একই এলাকা অং পায়ে সোনের নামে ৪ বেডরুমের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার চুক্তিপত্র ও দলিল এবং খিন থিরি থেট মনের নামে থাকা সিয়াম কমার্সিয়াল ব্যাংকের (এসসিবি) ‍দুটি ব্যাংকবুক মিলেছে বলে ১৭ সেপ্টেম্বর জব্দকৃত সম্পদের এক সরকারি নথিতে দেখা যাচ্ছে।

মিয়ানমারের অ্যাক্টিভিস্টদের গ্রুপ জাস্টিস ফর মিয়ানমারের এক মুখপাত্র বলেছেন, ব্যাংককের ওই অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া নথিপত্রে হ্লাইং পরিবার যে থাইল্যান্ডে গোপনে সম্পদ কিনছে তার ইঙ্গিত মিলেছে।

মিয়ানমারে যুদ্ধাপরাধ করা ব্যক্তিদের কাছে থাইল্যান্ড যেন নিরাপদ আশ্রয়স্থল না হয়ে ওঠে সেজন্য থাই ব্যাংক ও সম্পদে ওই যুদ্ধাপরাধীদের প্রবেশাধিকার বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এবং মিয়ানমারের জনগণের কাছ থেকে চুরি যাওয়া সম্পদ জব্দে থাইল্যান্ডের সরকারের কাছেও আবেদন জানিয়েছে তারা।

থাই সরকারের মুখপাত্র আনুচা বুরাপাচাইশ্রি এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি; তিনি এ সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। ওই বাহিনীগুলোর কাছ থেকেও রয়টার্স কোনো মন্তব্য জোগাড় করতে পারেনি।

খিন থিরির নামে থাকা এসসিবির ওই দুটি ব্যাংক হিসাব এখন বন্ধ রয়েছে। তবে কখন, কারা হিসাবগুলো বন্ধ করেছে তা জানতে পারেনি রয়টার্স।

এসব নিয়ে এসসিবি, বেলে গ্র্যান্ড রামা ৯ অ্যাপার্টমেন্ট কর্তৃপক্ষ, থাই পুলিশ, দেশটির মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও মুদ্রাপাচারবিরোধী দপ্তরেরও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক