Published : 19 Jul 2026, 09:00 PM
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির ধর্নামঞ্চে অনশনরত লাদাখের শিক্ষাবিদ ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ শনিবার জোর করে সফদরজং হাসপাতালে নেওয়ার পর এবার সেই হাসপাতালেই তাকে থাকার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট।
ওয়াংচুককে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্ট তা খারিজ করে দিয়েছে। উচ্চ আদালত জানিয়েছে, সরকারি হাসপাতালে রেখে ওয়াংচুকের চিকিৎসা হলে তাতে তার শারীরিক স্বাধীনতা হরণ করা হয় না।
স্বচ্ছতার অভাবের কারণে হাসপাতালের ওপর আস্থা নেই অভিযোগ করে ওয়াংচুকের স্ত্রী আংমো তাকে গুরগাঁওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করাতে চেয়েছিলেন। তার সেই আবেদনের ভিত্তিতেই রবিবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানি হয় হাইকোর্টে।
আংমোর পক্ষে আইনজীবী কপিল সিবাল যুক্তি দেন, “কোন হাসপাতালে নিজের চিকিৎসা করানো হবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে আমার মক্কেলের।”
পাল্টা যুক্তিতে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা বলেন, “সোনম ওয়াংচুকের জীবন নিয়ে কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। দেশের রাষ্ট্রপতিও সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা করান।”
শুনানি শেষে বিচারপতি মিনি পুষ্করণার বেঞ্চ বলেছে, সোনমের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ার পরও তিনি নিজে থেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছিলেন না। সে দিক দিয়ে সরকারের কোনও রকম ‘খামখেয়ালি’ করেনি।
আদালত জানিয়েছে, চিকিৎসকদের একটি দল ওয়াংচুককে সবসময় পর্যবেক্ষণে রাখছে। তাকে জোর করে কিছু করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য নয়। ওয়াংচুকের সঙ্গে যাতে তার স্ত্রী এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের দেখা করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়, সেকথাও বলেছে আদালত।
আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ওয়াংচুকের চিকিৎসার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে হাসপাতালের মেডিক্যাল টিমই। আগামী তিন দিনের মধ্যে তার স্বাস্থ্য রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৪ জুলাই।
শনিবার ছিল ওয়াংচুকের অনশনের ২১তম দিন। সেদিন বিক্ষোভস্থল কার্যত ‘দখল’ নেয় পুলিশ। ওই মঞ্চেই ওয়াংচুকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়। তার পরে তাকে অনশনমঞ্চ থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে।
শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে দিল্লির হাসপাতালে ওয়াংচুককে ভর্তি করানো হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দিয়ে জানায়, দীর্ঘ উপবাস এবং শরীরে জলশূন্যতার কারণে ওয়াংচুক দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল।
বিকেলে আবার ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে বিবৃতি দেয় হাসপাতাল। সেই বুলেটিনে জানানো হয়, স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও ওয়াংচুককে রাজি করানো যায়নি। কোনও ওষুধ খাওয়ানোও যায়নি। দীর্ঘ অনশনের কারণে তার শরীরে তরলের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমেছে।
সফদরজং হাসপাতালে ওয়াংচুকের তেমন কোনও চিকিৎসা হচ্ছে না বলে দাবি করেন তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি। ওয়াংচুকের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে ২.৯ হয়ে গিয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানয়ি। কিন্তু গীতাঞ্জলির দাবি, তা সম্ভব নয়।
কারণ, শুক্রবারও পটাশিয়ামের মাত্রা ছিল ৪.৩। এক দিনে তা এত কমা সম্ভব নয়। তাই হাসপাতালের বক্তব্য অন্যত্র যাচাই করে দেখবেন তারা। তার পর সঠিক পদক্ষেপ নেবেন। ওয়াংচুককে অন্যত্র সরানোর ভাবনাচিন্তাও করেন তারা।
ওদিকে, জোর করে অনশনমঞ্চ থেকে ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে যাওয়ায় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা শুরু করেছে বিরোধীরা। বড় বড় সব নেতারা ওয়াংচুককে নিয়ে মুখ খুলেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দাবি, সরকারি নয়, কোনও বেসরকারি হাসপাতালে রেখে ওয়াংচুকের চিকিৎসা করানো উচিত।
অন্যদিকে, ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা দীপকে।