Published : 25 Jul 2026, 11:50 AM
ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভের কাছে একটি ড্রোন প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জনের প্রাণ গেছে।
বিবিসি লিখেছে, দিনের বেলা প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ওই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ জন।
একই দিনে ইউক্রেইনের অন্যান্য অঞ্চলেও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। পূর্ব ইউক্রেইনের স্লোভিয়ানস্ক শহরে রাশিয়ার ফেলা গ্লাইড বোমায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে শনিবার ভোরে আরও দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইউক্রেইনীয় সামরিক বিভাগ। সব মিলিয়ে ইউক্রেইনজুড়ে নতুন করে ১৫ জন নিহত হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার সন্ধ্যায় সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়া আরও একটি বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
প্রদর্শনীতে হামলার পর ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সের্হি বেসক্রেস্তভ (যিনি 'ফ্ল্যাশ' নামে পরিচিত) এবং সেনাবাহিনীর প্রযুক্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা লিউবা শিপোভিচের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

তবে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা দুজনেই অক্ষত থাকার কথা নিশ্চিত করেন। বেসক্রেস্তভ জানান, নিরাপত্তা শঙ্কায় তিনি নিজেই ওই অনুষ্ঠান এড়িয়ে গেছেন।
যুদ্ধের মধ্যে এমন একটি উন্মুক্ত প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন এবং ব্যাপক প্রচার চালানো নিয়ে ইউক্রেইনজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে জানিয়ে দেশটির প্রোসিকিউটর জেনারেল বলেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে কারা ছিলেন এবং কার অনুমতিতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইউক্রেইনের বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানান, হামলায় তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে কেবল একটি মাঝপথে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।
২০২২ সালে পূর্ণ মাত্রার অভিযান শুরুর পর এ নিয়ে অন্তত তিনবার ইউক্রেইনের ড্রোন প্রদর্শনীতে হামলা চালালো মস্কো।
হামলার বিষয়টি স্বীকার করে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে ওই প্রদর্শনীতে হামলা চালানো হয়।
রাশিয়ায় হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ড্রোন প্রস্তুতকারক এবং সামরিক গোয়েন্দারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
কিইভে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই রাশিয়ার ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি ভেতরে কিরভ শহরের একটি সামরিক কারখানায় ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেইন। তাতে ছয়জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, রুশ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই কারখানায় ‘সফল’ হামলা চালানো হয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ার সর্ববৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস 'ওয়াইল্ডবেরিজ'-এর সেন্ট পিটার্সবার্গ এলাকার বিভিন্ন গুদামেও ইউক্রেইনের ড্রোন আঘাত হেনেছে।
কিইভের দাবি, রুশ সামরিক বাহিনীর লজিস্টিক বা সরবরাহ ব্যবস্থা পঙ্গু করে দিতেই এসব গুদামকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
এদিকে, নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর চেষ্টার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টের।
বর্তমানে কিইভ সফররত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লরা লুমার জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর জানান, যুক্তরাষ্ট্র সফরের দিন প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি।
অন্যদিকে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকোশর দান বলেছেন, শুক্রবার তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা একটি রুশ ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে রোমানীয় বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।