Published : 29 May 2026, 04:41 PM
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং নেটোর সদস্য দেশ রোমানিয়ায় রাশিয়ার একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে।
শুক্রবার ভোরে প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেইনে রাশিয়ার হামলার সময় ড্রোনটি সীমান্ত পেরিয়ে রোমানিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর গালাচি-র একটি ১০ তলা আবাসিক ভবনের ছাদে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়।
ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম রোমানিয়ার কোনো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রুশ ড্রোন আঘাত হানল। এ ঘটনায় এক নারী ও এক শিশু আহত হয়েছে।
এতে নেটো ও ইইউর পূর্ব সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নেটোর একজন মুখপাত্র সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আমরা রাশিয়ার এমন বেপরোয়া আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। ড্রোনসহ যেকোনো ধরণের হুমকির বিরুদ্ধে নেটো তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করবে।”
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেছেন, “রাশিয়া এবার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”
রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ার ‘গেরান-২’ ড্রোনের পুরো বিস্ফোরক অংশটি বহুতল ভবনটিতে আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরিত হয়।
এর ফলে ভবনটির ১০ তলার একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুন ধরে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ভবনটি প্রায় ৭০ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রোমানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ানা তইইউ এই ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি জানান, বুখারেস্টে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে ইতিমধ্যে তলব করা হয়েছে আর রোমানিয়ায় ড্রোন-প্রতিরোধী সক্ষমতা বাড়াতে মিত্র দেশগুলোর কাছে দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার সময় আকাশসীমা পর্যবেক্ষণের জন্য রোমানিয়ার দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং একটি সামরিক হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছিল।
রোমানিয়ার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জর্জ মাক্সিম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ড্রোনটি মাত্র চার মিনিট রোমানিয়ার আকাশসীমায় ছিল এবং এটি অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে আসায় রাডারে ধরা পড়া কঠিন ছিল।
শহরে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকায় মার্কিন অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা ‘মেরোপস’ থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করা যায়নি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেইনের সঙ্গে ৬৫০ কিলোমিটারের সীমান্ত থাকা রোমানিয়ায় এ পর্যন্ত ২৮ বার রুশ ড্রোন আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।