Published : 19 Feb 2026, 12:46 PM
প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের নির্দেশে তার ‘জোরো র্যাঞ্চ’ খামারবাড়ির বাইরে দুই বিদেশি মেয়ের লাশ পুঁতে ফেলার যে অভিযোগ মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর বিচার বিভাগ।
তাদের মুখপাত্র লরেন রদ্রিগেজ বলেছেন, ২০১৯ সালের যে ইমেইলে এ অভিযোগ এসেছে তার সংশোধনপূর্ব অবস্থার কপি দিতে তারা মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে মন্তব্য চেয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তারা সাড়া দেয়নি। দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই-ও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
“আমরা সক্রিয়ভাবে অভিযোগটি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি, মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়ের সম্প্রতি প্রকাশিত নথির আলোকে বিষয়টি বিস্তৃতভাবে খতিয়েও দেখা হচ্ছে,” এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ইমেইলে এমনটাই বলেছেন রদ্রিগেজ।
এর একদিন আগে নিউ মেক্সিকোর আইনপ্রণেতারা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সান্তা ফে-র ৪৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত জোরো র্যাঞ্চে এপস্টেইন নারী ও মেয়েদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছিলেন—এমন অভিযোগের প্রথম পূর্ণাঙ্গ তদন্তের উদ্যোগ নেন।
এপস্টেইনের অপরাধ উন্মোচনে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের যে চাপ তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
২০১৯ সালের যে ইমেইলে এপস্টেইনের খামারবাড়ির কাছে লাশ পুঁতে রাখার অভিযোগ এসেছে সেটি পাঠানো হয়েছিল নিউ মেক্সিকোর এক রেডিও শো-র উপস্থাপক এডি আরাগনকে, তিনি আগে তার অনুষ্ঠানে জোরো র্যাঞ্চ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
আরাগনের কাছে ওই ইমেইলটি আসে এপস্টেইনের মৃত্যুর কয়েক মাস পর। প্রেরক নিজেকে জোরো র্যাঞ্চের সাবেক কর্মী দাবি করে সেখানে বলেন, এক বিটকয়েনের বিনিময়ে তিনি এপস্টেইনের ঘর থেকে নেওয়া ভিডিও তাকে পাঠাতে পারবেন, যেখানে অল্পবয়সী মেয়েদের সঙ্গে দণ্ডিত এ অপরাধীর যৌনকর্মের দৃশ্য আছে।
ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগন বলেন, তিনি ইমেইলটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেছিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই তা এফবিআইকে ফরোয়ার্ড করেন।
তার দাবি, তিনি কোনো অর্থ পাননি এবং পরে ইমেইলটির প্রেরকের সঙ্গে আর যোগাযোগও হয়নি। তবে সম্প্রতি তিনি প্রথমবার প্রেরকের ইমেইলের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, পরে দেখতে পান যে ওই ইমেইল ঠিকানা আর ব্যবহৃত হচ্ছে না।
আরাগনকে পাঠানো ওই সংশোধিত ইমেইলে বলা হয়েছে, দুই বিদেশি মেয়েকে এপস্টেইনের নির্দেশে ‘জোরোর বাইরে পাহাড়গুলোর কোথাও’ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে এবং ওই দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল ‘যৌনকর্মের সময় শ্বাসরোধজনিত ঘটনায়’।
এ ইমেইলেটি প্রকাশ্যে আসে ‘এপস্টেইন ফাইলসের’ সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে। এ নথিগুলোর মধ্যে ২০২১ সালের এফবিআইয়ের এক প্রতিবেদনও আছে, যেখানে বলা হয়েছে আরাগন ইমেইলটি সম্বন্ধে জানাতে এফবিআইয়ের কার্যালয়েও গিয়েছিলেন। ওই ইমেইলে এক বিটিকয়েনের বিনিময়ে যৌন নিপীড়নের ৭টি ভিডিও এবং জোরো র্যাঞ্চের কোথায় দুই বিদেশি মেয়েকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল সে জায়গাটি চিনিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় প্রকাশিত নথির আর কোথাও এই অভিযোগ কিংবা এ নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা কিছু করেছেন কিনা সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় গত বছর সতর্ক করে বলেছিল, তাদের প্রকাশিত নথিগুলোতে এমন অনেক অভিযোগ আছে যেগুলো ‘অসত্য ও সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল’। এর মধ্যে অজ্ঞাতনামাদের অনেক অভিযোগ আছে যেগুলো তদন্তকারীরা হয় খতিয়ে দেখতে পারেননি, কিংবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।
বুধবার এক সাক্ষাৎকারে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের ভূমি কমিশনার স্টেফানি গার্সিয়া রিচার্ড বলেছেন, তার কার্যালয় এপস্টেইন সংক্রান্ত সর্বশেষ নথিগুলোর মধ্যে সংশোধিত আকারে প্রকাশিত ওই ইমেইলের খোঁজ পায়।
১০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়কে লেখা এক চিঠিতে এবং এক বিবৃতিতে গার্সিয়া এপস্টেইনের ওই খামারবাড়ি ও আশপাশের ভূমিতে হওয়া অপরাধমূলক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করে দেখতে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের বিচার কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বানও জানান।
১৯৯৩ সালে এপস্টেইন তার খামারবাড়ির আশপাশের প্রায় এক হাজার ২৪৩ একর জমি অঙ্গরাজ্যের কাছ থেকে লিজ নেন। কিন্তু এপস্টেইন ওই জমি খামারের কাজে বা কৃষিকাজে না লাগিয়ে তার র্যাঞ্চের গোপনীয়তা নিশ্চিতে ব্যবহার করেছেন বুঝতে পেরে গার্সিয়া ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ওই লিজ বাতিল করে দেন।
ওই বছরের অগাস্টেই নিউ ইয়র্কের জেলে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পরে কর্তৃপক্ষ জানায়।
লিংক-
এপস্টেইনের 'জোরো র্যাঞ্চ' নিয়ে নিউ মেক্সিকোতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অনুমোদন