১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

এপস্টেইনের ‘জোরো র‍্যাঞ্চ’ নিয়ে নিউ মেক্সিকোতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অনুমোদন

তদন্তের জন্য দ্বিদ্বলীয় ট্রুথ কমিশন গঠন করা হয়েছে চার আইনপ্রণেতা নিয়ে। মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে কাজ। বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে কমিশন।

এপস্টেইনের ‘জোরো র‍্যাঞ্চ’ নিয়ে নিউ মেক্সিকোতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অনুমোদন
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Feb 2026, 07:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

প্রয়াত কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের নিউ মেক্সিকোর খামারবাড়ি ‘জোরা র‍্যাঞ্চ’-এ নারী ও কিশোরীদের পাচার এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হচ্ছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো রাজ্যের আইনপ্রণেতারা এই সংক্রান্ত একটি আইন পাস করেছেন।

সান্তা ফে-র প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত ৭ হাজার ৬০০ একর আয়তনের এই বিশাল সম্পত্তিতে যেসব অথিতি আসতেন এবং সেখানে কী চলছে তা যেসব রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের জানা ছিল বা যেসব কর্মকর্তা যৌন অপব্যবহারের মতো কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন তাদেরকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাবে ট্রুথ কমিশন।

দ্বিদ্বলীয় এই কমিশন গঠন করা হয়েছে চার আইনপ্রণেতা নিয়ে। র‌্যাঞ্চে যৌন অপব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ যারা করেছে সেইসব ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে এই কমিটি।

যৌন পাচারের ফেডারেল অভিযোগে ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের জেলে থাকার সময়ই আত্মহত্যা করেছিলেন এপস্টেইন। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ ফাইল প্রকাশ করার পর জোরো র‌্যাঞ্চে এপস্টেইনের কার্যকলাপের বিষয়টি সামনে আসে। 

এরপরই ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে জোরো র‌্যাঞ্চ নিয়ে এই পূর্ণ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হল, যা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপে নতুন মাত্রা যোগ করল।

প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলগুলোতে নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট দলীয় সাবেক দুই গভর্নর এবং একজন অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

নিউ মেক্সিকোর হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস- এর ভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে তদন্ত শুরুর নতুন আইন। এর ফলে ডেমোক্র্যাট পরিচালিত এই রাজ্যে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা অন্য যে কোনও রাজনীতিবিদের জন্য এই আইন ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

সেইসঙ্গে বিপদে পড়তে পারেন বিজ্ঞানী, বিনিয়োগ কারীরাসহ অন্যান্য উচ্চ-পদস্থ ব্যক্তিরা যারা ওই র‌্যাঞ্চে ভ্রমণ করেছিলেন।

২৫ লাখ ডলার বাজেটের এই তদন্ত কমিটির হাতে বিশেষ ক্ষমতা (সোপিনা পাওয়ার) দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা যেকোনও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে তলব করতে পারবে। 

কমিটির কো-স্পন্সর এবং নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি আন্দ্রেয়া রোমেরো বলেন, “এপস্টেইন এই রাজ্যে কোনও দায়বদ্ধতা ছাড়াই যা খুশি তা-ই করে গেছেন।” ভবিষ্যতে বিচারের জন্য কমিটিতে দেওয়া সাক্ষ্যকে কাজে লাগানো হতে পারে বলে জানান তিনি।

উপেক্ষিত ছিল ‘জোরো র‍্যাঞ্চ’

ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা নতুন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর আগে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলো কেবল এপস্টেইনের ক্যারিবিয়ান দ্বীপ এবং নিউইয়র্কের বাড়ির ওপর নজর দিয়েছিল, ফলে নিউ মেক্সিকোর এই র‍্যাঞ্চ আড়ালেই থেকে গিয়েছিল।

ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন স্থানীয়ভাবে ম্যাসাজ থেরাপিস্ট নিয়োগ করতেন এবং বাইরে থেকেও নারীদের উড়িয়ে আনতেন। 

ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে এক জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন, এপস্টেইনের সঙ্গী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল তাকে নিউ মেক্সিকোর সাবেক গভর্নর বিল রিচার্ডসনকে ‘ম্যাসাজ’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা মূলত যৌন সম্পর্কের ইঙ্গিত ছিল। রিচার্ডসনের প্রতিনিধি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

চারজন আইনপ্রণেতার সমন্বয়ে গঠিত ‘ট্রুথ কমিশন’ মঙ্গলবার থেকেই তাদের কাজ শুরু করবে। জুলাই মাসে অন্তর্বর্তীকালীন তথ্য প্রকাশ এবং বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে কমিশনের। 

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যগুলো ভবিষ্যতে নতুন করে ফৌজদারি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।