Published : 17 Dec 2025, 09:08 PM
ভারতে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে হীরার জন্য বিখ্যাত পান্না জেলায় ১৫ দশমিক ৩৪ ক্যারেট ওজনের এবং আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ লাখ রুপি মূল্যের একটি বিশাল রত্ন-মানের হীরা আবিষ্কারে ভাগ্য বদল হতে চলেছে দুই বন্ধুর।
২৪ বছর বয়সী সতীশ খটিক ও ২৩ বছর বয়সী সাজিদ মোহাম্মদ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে জমি ইজারা নিয়েছিলেন। সেখানেই তারা বড়, চকচকে একটি হীরখণ্ড খুঁজে পান।
পান্না জেলার সরকারি হীরা নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধন কেন্দ্র পান্না ডায়মন্ড অফিসে হীরাটি জমা দিয়েছেন তারা। সেখানে এই হীরা খুবই মূল্যবান বলে শনাক্ত করা হয়েছে এবং দাম ধরা হয়েছে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ লাখ রুপি।
পান্না ডায়মন্ড অফিসের হীরা মূল্যায়নকারী কর্মকর্তা অনুপম সিং বিবিসি-হিন্দিকে বলেন, “হীরাটি শিগগিরই নিলাম করা হবে।”
সতীশ খাটিক এবং সাজিদ মহম্মদ হীরার খনি অঞ্চলে জমি লিজে নিয়েছিলেন আর্থিক সংকট কাটিয়ে বোনদের বিয়ের জন্য টাকা জোগাড় করার উদ্দেশ্য নিয়ে।
হীরা নিলামে তোলার কথা শুনে এই দুই বন্ধু বলেন, তারা যেন চাঁদ হাতে পেয়েছেন। “আমরা এখন আমাদের বোনদের বিয়ে দিতে পারব”, বলেন তারা।
রানিগঞ্জের বাসিন্দা সতীশ ও সাজিদ দু’জনেই সাধারণ পরিবারের ছেলে। সতীশ একটি ছোট মাংসের দোকান চালান, ওদিকে সাজিদ কাজ করেন ফলের দোকানে।
দুই যুবকের বাবা, দাদারা বহু বছর ধরে হীরার খোঁজে খনিতে কাজ করেছিলেন, কিন্তু তেমন বড় হীরা তাদের হাতে আসেনি। অবশেষে তাদের স্বপ্নকেই বাস্তবে পরিণত করল নাতিরা।
মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের পান্না জেলায় হীরার ১২ লাখ ক্যারেটের বিশাল মজুত আছে বলে ধরা হয়। এ অঞ্চলে সরকারি–বেসরকারিভাবে হীরার জন্য মাটি খনন করা হয়ে আসছে।
রাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর ছোট ছোট জমি স্থানীয়দেরকে লিজ দেয়। ক্ষুদ্র খনিশ্রমিকেরা ছোট হীরার টুকরোর আশায় গভীরে খননকাজ চালান। বেশির ভাগই ব্যর্থ হন।
গত এক মাসে ছয়জন কৃষক পাঁচটি হীরা খুঁজে পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনটির মান ভাল, যার মূল্য প্রায় ১২ লাখ রুপি। এবছর এখন পর্যন্ত পান্না ডায়মন্ড অফিসে ৬০টিরও বেশি হীরে জমা পড়েছে। তবে অধিকাংশের ওজন দুই ক্যারেটের কম।
পান্না জেলায় ক্ষুদ্র খনিশ্রমিকেরা সাধারণ হাতিয়ার ব্যবহার করে হীরা খোঁজেন এবং যা পান, তা রাজ্য অফিসে জমা দেন। তারপর নিলাম আয়োজন করে, রয়্যালটি এবং করের পর অবশিষ্ট অর্থ অনুসন্ধানকারীর কাছে যায়।