Published : 07 Sep 2026, 04:37 PM
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় দুই স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ জেলার এক শহরে একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন।
এদিকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই একই জেলার 'দেইর আল-জাহরানি' শহরের এক আবাসিক এলাকায় রাতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
তাদের দাবি, ভবনটি হিজবুল্লাহর এক স্থাপনার কাছে অবস্থিত ছিল এবং সেখান থেকে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হতো।
এর আগের দিন নাবাতিয়েহ জেলার কাছেই 'আরব সালিম' শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত ও ২০ জন আহত হন।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে এক রূপরেখা চুক্তি হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা থামেনি। ওই চুক্তির আওতায় একটি ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, লেবানন সেনাবাহিনীর হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি এই অঞ্চলে পরীক্ষা করার কথা ছিল।
কিন্তু ইসরায়েল এখনো দক্ষিণ লেবাননের বহু গ্রাম দখল করে রেখেছে আর তারা সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানানোয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ লেবাননের কফর রেমান শহর থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি জেইনা খোদর জানান, অঞ্চলজুড়ে এখন গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জুনে চুক্তি হওয়ার পর হামলা থামবে, এমন আশায় বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজ এলাকায় ফিরে বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করতে শুরু করেছিলেন।
জেইনা খোদর বলেন, “এখানে সবাই মনে করছে, ইসরায়েল সংঘাতের নতুন নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মানুষ জানে না সামনে কী হতে যাচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় একের পর এক বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষ মারা যাচ্ছে এবং আবাসিক ভবন ধ্বংস হচ্ছে।”
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, “দমকলের কর্মীরা সারারাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এটি এখন আর জীবিতদের উদ্ধারের অভিযান নয়; বরং ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ বের করে আনার অভিযানে পরিণত হয়েছে।”
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৪৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১২৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে জানায়, ২ মার্চ থেকে লেবাননের অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের ওপর অন্তত ১৭৯টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, এতে ১৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির পর সংঘাত কিছুটা কমলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল তাদের কথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ গ্রামগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া অব্যাহত রেখেছে।
এমনকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো আগাম সতর্কতা বা এলাকা ছাড়ার নির্দেশ ছাড়াই ওই অঞ্চলের ভেতরে ও উত্তরাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।