Published : 31 Aug 2025, 02:14 PM
গুমের অসংখ্য ঘটনা সামনে এনে এ ধরনের অপরাধ মোকাবেলায় কর্মকর্তাদের আরও উদ্যোগী হওয়ার দাবি জানিয়ে মেক্সিকোজুড়ে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ।
মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা, কর্ডোবাসহ বিভিন্ন শহরের সড়কগুলোতে শনিবার নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও মানবাধিকার কর্মীরা প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সরকারের কাছে ন্যায়বিচার এবং নিখোঁজ প্রিয়জনদের সন্ধান বের করতে সহযোগিতা চেয়েছেন।
মেক্সিকোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হিসেবে নিখোঁজ এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি; ২০০৭ সালের পর থেকে এদের প্রায় সবাই ‘গায়েব’। ওই বছরই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফেলিপে কালদেরোন তার ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শুরু করেছিলেন।
অনেক ক্ষেত্রে এ নিখোঁজদের অনেককে তুলে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক মাদকের কারবারে নিযুক্ত দেওয়া হয়েছে, বাধা দেওয়ায় অনেককে হত্যা করা হয়েছে বলেও খবর মিলেছে।
বেশিরভাগ ঘটনার জন্য মাদকের কার্টেল এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীকে দায়ী করা হলেও অনেক মৃত্যু ও গুমের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে দায়ী করা হয়।
অনেকগুলো শহর, রাজ্য ও পৌরসভায় এমন প্রতিবাদই দেখাচ্ছে মেক্সিকোজুড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও পরিবারে গুমের প্রভাব কতটা ব্যাপক।
দেশটির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত, ওয়াহাকার মতো দক্ষিণের রাজ্যগুলো থেকে শুরু করে সোনোরা ও দুরাঙ্গোর মতো উত্তরের রাজ্যগুলোতে মানবাধিকার কর্মী ও গুমের শিকার হওয়া মানুষদের পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনদের ছবি লাগানো প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নেমে এ সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষ যেন আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেয় সে দাবি জানিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের মিছিল প্রধান সড়ক দিয়ে অগ্রসর হলে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গুমের শিকার হওয়া অনেকের পরিবারের সদস্যরা মিলে কখনো কখনো অনুসন্ধান দল বানায়, এই দলগুলো ‘বুসকাদোরস’ নামে পরিচিত। এই দলগুলো নানান সময়ে গোপন খবরের ভিত্তিতে ব্যক্তি বা গণকবরের খোঁজে বিভিন্ন দুর্গম এলাকা ও মেক্সিকোর উত্তরের মরুভূমি চষে বেড়ায়।
বুসকাদোরসগুলোর সদস্যরা বড় ধরনের ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়েই তাদের অনুসন্ধান ও কার্যক্রম চালান। সম্প্রতি এমনই এক দল হালিস্কো রাজ্যে মাদক কারবারিদের আস্তানা বলে মনে হওয়া একটি জায়গার খোঁজ পাওয়ার পর ওই অনুসন্ধানে জড়িত বুসকাদোর সদস্য নিখোঁজ হয়ে যান।
তবে রাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় পরে জানায়, তারা ওই স্থানে শবচুল্লি থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘ মেক্সিকোতে গুম ও নিখোঁজের ঘটনাকে ‘এক বিশাল মাত্রার মানবিক ট্র্যাজেডি’ অভিহিত করেছে।
মেক্সিকোতে যে মাত্রায় নিখোঁজের ঘটনার কথা জানা যাচ্ছে তা লাতিন আমেরিকার অনেক দেশের সবচেয়ে বাজে সময়ের চেয়েও বেশি।
১৯৯৬ সালে শেষ হওয়া গুয়াতেমালার ৩৬ বছরের গৃহযুদ্ধে প্রায় ৪০ হাজার নিখোঁজ হয়েছিল বলে জানা যায়। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসনে থাকা আর্জেন্টিনায়ও এ সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৩০ হাজার।