Published : 25 Jun 2026, 01:09 PM
দীর্ঘ বিরতির পর নতুন প্রযোজনা নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছে নাট্যদল ‘পালাকার’। নাটকের নাম ‘হাজার চুরাশি’।
মগবাজার বিশাল সেন্টারের তৃতীয় তলার ছাদে নির্মিত হয়েছে তাদের নতুন নাটকের ঘর ‘পালাকার রুফটপ স্টুডিও’। সেখানেই আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির উদ্বোধন হবে। এর উদ্বোধন করবেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ।
কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘হাজার চুরাশি’ নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন শামীম সাগর।
নাটকের গল্প নিয়ে নির্দেশক শামীম সাগর জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি সরকারি হাসপাতালের হিমশীতল মর্গের পটভূমিতে তৈরি। যেখানে ১০৮৪ নম্বর ট্যাগ লাগানো তরুণ শুভর নিথর দেহ পড়ে আছে। শাসকের অন্যায় ও শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে বুলেটের সামনে বুক পেতে দেওয়া শুভ আজ কেবলই এক নামহীন সংখ্যা।

মর্গে সন্তানের মৃতদেহ শনাক্ত করতে এসে মা রাহেলা বেগম এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হন। তিনি দেখেন, কীভাবে প্রতিটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে একদল সুবিধাবাদী মানুষ বারবার খোলস বদলে ক্ষমতায় ভাগ বসায়। ‘হাজার চুরাশি’ কেবল একটি লাশের ময়নাতদন্ত নয়, এটি মূলত সমাজের জ্যান্ত লাশ ও সুবিধাবাদীদের মুখোশ উন্মোচনের গল্প।
নাটকটি নিয়ে নির্দেশক সাগর বলেন, "মহাশ্বেতা দেবীর কালজয়ী উপন্যাস ‘হাজার চুরাশির মা’ সব সময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ এবং মানবিকতার অনন্য দলিল। সেই অনুভূতি থেকেই এই নাট্যরূপ নির্মিত হয়েছে। একজন নাট্যকর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, থিয়েটারের কাজ শুধু চলমান সময়কে আয়নায় দেখানো নয়, বরং সেই সময়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ক্ষতগুলোকে স্পর্শ করা। এই প্রযোজনায় ক্ষমতার পালাবদলের সমান্তরালে তথাকথিত ‘সুশীল’ সমাজের ভণ্ডামি ও সুবিধাবাদকে নাট্যভাষায় ধরার চেষ্টা করেছি।"

পালাকার বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘হাজার চুরাশি’ নাটকটির প্রথম দফায় তিনটি প্রদর্শনী রয়েছে। ২৬, ২৭ ও ২৮ জুন সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় প্রথম দিনের উদ্বোধনী প্রদর্শনীটি শুধু আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে বাকি দুইটি প্রদর্শনী সাধারণ দর্শকরা দেখতে পারবেন।
২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মগবাজার দিলুরোড ও বেইলি রোডের 'পালাকার স্টুডিও'তে নিয়মিত নাটক প্রদর্শন করেছে দলটি। প্রতি শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যায় ঘরোয়া পরিবেশে নিরীক্ষাধর্মী বেশ কিছু ‘ইন্টিমেট থিয়েটার’ করেছিল পালাকার।
যার মধ্যে রয়েছে 'প্রজেক্ট হান্ড্রেড প্লাস', 'ডেথ নকস', 'টাইমস্কোপ', 'মৃত্তিকাকুমারী', 'ডাকঘর', 'বাসন' ও 'রিক্যুয়েস্ট কনসার্ট'।