১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ বন্ধ ও ফের আলোচনা শুরু করতে রাজি: মার্কিন কর্মকর্তা

এতে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি রক্ষা পাওয়ার আশা বাঁচালো যা কয়েকদিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলায় চাপের মধ্যে ছিল।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ বন্ধ ও ফের আলোচনা শুরু করতে রাজি: মার্কিন কর্মকর্তা
ইরানি ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাহরাইনের একটি স্থাপনা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jun 2026, 12:36 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:31 PM

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে তাদের বিরোধের বিষয়ে ফের আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।  

এতে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি (সমঝোতা স্মারক) রক্ষা পাওয়ার আশা বাঁচালো যা কয়েকদিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলায় চাপের মধ্যে ছিল, লিখেছে রয়টার্স। 

রোববার ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “সমঝোতা স্মারকের সকল ক্ষেত্রে কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখা নির্ধারিত হয়েছে। উভয়পক্ষ এখনকার মতো নিষ্ক্রিয় থাকবে আর অবাধে জাহাজ চলাচল করতে পারবে।”   

১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের উল্লেখ করে এসব কথা জানান তিনি। ওই সমঝোতা স্মারকের আলোকে হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য ফের উন্মুক্ত হওয়ার কথা।  

ইরান থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স 

ইরান থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম অ্যাক্মিওস প্রথম ঊধ্র্বতন এক মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এই শত্রুতা বন্ধের খবর দিয়ে জানায়, মঙ্গলবার কাতারে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা ফের শুরু হবে। 

বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’ ইরানি ড্রোন হামলার শিকার হয়। এই হামলার পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে হামলা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ এলাকা এবং উপকূলীয় রেডার স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

এর পরেই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলা জবাবে তারা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

শনিবার সেন্টকম জানায়, এদিন পানমার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার ইরানের ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর তারা ফের ইরানের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আঘাত হেনেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, “এমন এক মুহূর্ত আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তিসঙ্গত থাকতে পারবো না আর যে কাজটি আমরা অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছিলাম তা সামরিকভাবে সম্পন্ন করতে বাধ্য হতে পারি। যদি তেমনটি হয় তাহলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের আর অস্তিত্ব থাকবে না!”

ট্রাম্প এমন হুমকি দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রোববার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কুয়েত ও বাহরাইনে অন্তত আটটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। 

এসব পাল্টাপাল্টি হামলা চলার সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের বিরুদ্ধে সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। আইআরজিসি ঘোষণা করে, যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা বন্ধ থাকবে। তবে এসব সত্ত্বেও ফের দুদেশ কূটনীতিতে ফিরেছে বলে খবর এল।  

আরও পড়ুন: 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলাপাল্টা হামলা বেড়েই চলেছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ফের পাল্টাপাল্টি হামলাযুদ্ধবিরতি প্রশ্নবিদ্ধ