সফলভাবে গোয়েন্দা উপগ্রহ উৎক্ষেপণের দাবি উত্তর কোরিয়ার

মালিগিয়ং-১ নামের উপগ্রহটি ‘যথাযথভাবে’ কক্ষপথে প্রবেশ করেছে এবং নেতা কিম জং উন উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটি।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2023, 06:51 AM
Updated : 22 Nov 2023, 06:51 AM

উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, তারা সফলভাবে মহাশূন্যে একটি গোয়েন্দা উপগ্রহ স্থাপন করেছে।

সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর এ সাফল্য এল। ওই সময় মস্কো, পিয়ংইয়ংয়কে তাদের মহাকাশ কর্মসূচীতে সাহায্য করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তার আগে চলতি বছর দেশটির গোয়েন্দা উপগ্রহ উৎক্ষেপণের দুটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছিল।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বুধবার জানিয়েছে, মালিগিয়ং-১ নামের উপগ্রহটি ‘যথাযথভাবে’ কক্ষপথে প্রবেশ করেছে এবং নেতা কিম উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেছেন।

মঙ্গলবার রাতে এই উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পর নিকট ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি, জানিয়েছে রয়টার্স।

কেসিএনএর প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা গেছে, একটি ঘাঁটি থেকে উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে আর সেই রকেট উৎক্ষেপণ একজন দূর থেকে তাকিয়ে দেখছেন, পেছন থেকে যাকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলে মনে হয়েছে।

বিবিসি বলছে, প্রত্যাশিত সময়ের আগেই উৎক্ষেপণটি ঘটেছে। পিয়ংইয়ং জাপানকে নয় দিনের এক সময় পর্বে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে বলে আগে অবহিত করেছিল। বুধবার থেকে সেই সময় শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে তা শেষ হওয়ার কথা ছিল।

উত্তর কোরিয়ার মহাকাশ সংস্থাকে উদ্ধৃত করে কেসিএনএ জানিয়েছে, এই কার্যক্রম চালাতে চীন সীমান্তের নিকটবর্তী উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের সোহে উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ব্যবহার করা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়া তাদের গোয়েন্দা উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ দাবি করলেও তা এখনও যাচাই হয়নি। যদি এটি গোয়েন্দা উপগ্রহ বলে নিশ্চিত হয়, তাহলে চলতি বছর এটি ছিল তাদের এ ধরনের তৃতীয় উৎক্ষেপণ উদ্যোগ।

দেশটির জাতীয় মহাকাশ প্রযুক্তি প্রশাসন বলেছে, নিজের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে এই উৎক্ষেপণ উত্তর কোরিয়ার একটি বৈধ অধিকার। ‘শত্রুদের বিপজ্জনক সামরিক পদক্ষেপের’ মুখে উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধ প্রস্তুতি উন্নয়নে এই উপগ্রহ সাহায্য করবে।

সংস্থাটি বলেছে, নেতা কিম সরাসরি উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং যারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেই বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়া ও অন্যদের উপর নজর রাখার জন্য উত্তর কোরিয়া আরও বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করবে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, উপগ্রহটি সচল হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি তারা। তবে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সাহায্য পেয়েছে বলে বিশ্বাস তাদের।

উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক উত্তেজনা হ্রাস করতে ২০১৮ সালে দুই দেশের স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির কিছু অংশ স্থগিত করে। তারা ঘোষণা করে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্তে আবার নজরদারি শুরু করবে তারা।

পারামাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাখা জাতিসংঘ এ উৎক্ষেপণের নিন্দা করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানও উত্তর কোরিয়ার এ পদক্ষেপের নিন্দা করেছে।