অ্যাসাঞ্জের বিচার বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচ গণমাধ্যমের আহ্বান

এক খোলা চিঠিতে এ আহ্বান জানায়-যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান, ফ্রান্সের লা মন্ডে, জার্মানির দার স্পিগেল ও স্পেনের এল পাইস পত্রিকা।

রয়টার্স
Published : 29 Nov 2022, 03:50 PM
Updated : 29 Nov 2022, 03:50 PM

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে করা মামলার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন ও ইউরোপীয় পাঁচটি নেতৃস্থানীয় গণমাধ্যম।

সোমবার খোলা এক চিঠিতে গণমাধ্যমগুলো এ আহ্বান জানায়। এগুলো হল: যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান, ফ্রান্সের লা মন্ডে, জার্মানির দার স্পিগেল ও স্পেনের এল পাইস।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গণমাধ্যমগুলো অ্যাসাঞ্জের বিচার কার্যক্রম বন্ধের এই আহ্বান জানিয়েছে।

গণমাধ্যমগুলো সম্পাদক ও প্রকাশকরা চিঠিতে লিখেছেন, “অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ বিপজ্জনক এক নজির। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সংশোধনী এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হওয়ার হুমকি তৈরি করেছে।” চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “প্রকাশনা কোনও অপরাধ নয়।”

অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ৫০ বছর বয়সী জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিপুল পরিমাণ গোপন নথি ও কূটনৈতিক বার্তা ফাঁস করার ১৮টি অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৯ সাল থেকে তিনি যুক্তরাজ্যে কারাগারে বন্দি আছেন। তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

এজন্য অ্যাসাঞ্জকে প্রত্যর্পণ করতে যুক্তরাজ্যের কাছে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিচারে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে কয়েক দশক কারাগারে কাটাতে হতে পারে।

অ্যাসাঞ্জের প্রতিষ্ঠিত উইকিলিকস ওয়েবসাইট ২০১০ সালে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল।

ওই সব নথির মধ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান যুদ্ধ সম্পর্কিত ৭৬ হাজার এবং ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কিত আরো ৪০ হাজার নথি ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও পেন্টাগনকে চরম বেকায়দায় ফেলে দেয়।

অ্যাসাঞ্জ সমর্থকরা তার প্রশংসা করে বলছেন, তার ফাঁস করা নথিগুলো আধুনিক রাষ্ট্রের ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রকাশ্যে এনেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কৌসুলিরা বলছেন, অ্যাসাঞ্জ গোপন নথি ফাঁস করে অনেকের জীবন বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। সেকারণেই তার বিচার হওয়া বাঞ্ছনীয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক