চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে মার্কিন ৮ অঙ্গরাজ্যের নজিরবিহীন মামলা
মামলায় অভিযোগ, চ্যাটজিপিটিকে এমন প্রলোভন ও তোষামোদের কৌশলে তৈরি করা হয়েছে, যেন এটা খুব সহজেই ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল চ্যাটজিপিটি তরুণদের আত্মঘাতী পদক্ষেপ ও সহিংসতায় উৎসাহিত করছে এমন অভিযোগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি অঙ্গরাজ্য।
মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোয় প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই যুক্ত হয়েছে এতে। জোটের দাবি, চ্যাটজিপিটি অঙ্গরাজ্যগুলোর বাসিন্দাদের গুরুতর মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির ছক আঁকতে সাহায্য করছে।
একইসঙ্গে টিনএজারসহ ব্যবহারকারীদের আত্মঘাতী হতে এবং নৃশংস সহিংসতা চালাতে উৎসাহ ও পরামর্শ দিচ্ছে ওপেনএআইয়ের তৈরি এই বহুল আলোচিত চ্যাটবট।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একযোগে বিভিন্ন আদালতে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে এসব আলাদা মামলা দায়ের করার কথা নিশ্চিত করেছে মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, আইওয়া, কানসাস ও অ্যারিজোনা’সহ আটটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা নিজ নিজ অঙ্গরাজ্য আদালতে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
মামলায় অভিযোগ, চ্যাটজিপিটিকে এমন প্রলোভন ও তোষামোদের কৌশলে তৈরি করা হয়েছে, যেন এটা খুব সহজেই ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করতে পারে।
আদালতে জমা দেওয়া নথিতে জোটটি বলেছে, “চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের ভুল ধারণা বা মানসিক বিভ্রমকে আরও উসকে দিয়েছে, তাদের চরম ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে প্ররোচিত করেছে ও নির্বিচারে গুলির মতো ভয়াবহ সহিংসতার বিশদ পরিকল্পনা তৈরিতে সরাসরি সহায়তা করছে।”
প্রযুক্তি ও আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজারে শেয়ার ছাড়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এআই খাতের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি ওপেনএআই। এই মুহূর্তে এ সমন্বিত আইনি পদক্ষেপ তাদের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
এর আগে, এ বছরের জুনে প্রথম মার্কিন অঙ্গরাজ্য হিসেবে ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে কাছাকাছি অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
নতুন দায়ের হওয়া এসব মামলাতে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে চ্যাটজিপিটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা ও অঙ্গরাজ্যের গ্রাহক সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের সরাসরি অভিযোগ এসেছে।
পাশাপাশি, মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রশাসন চ্যাটবটটির অনিয়ন্ত্রিত ক্ষতিকর আচরণকে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি উল্লেখ করে বলেছে, “গ্রাহকদের নিরাপত্তাকে পুরোপুরি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কোম্পানিটি সমাজে এক ধরনের পাবলিক ন্যুইসেন্স বা উপদ্রব তৈরি করেছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো কেবল আইনি ব্যবস্থার মধ্যেই আটকে নেই, তারা আদালতে এমন আদেশের আবেদন জানিয়েছে, যা ওপেনএআইকে চ্যাটজিপিটি পরিচালনার মূল পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য করবে।
অন্যান্য দাবির পাশাপাশি, অঙ্গরাজ্যগুলো আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে, কোম্পানিটিকে যেন এমন কোনো এআই মডেল তৈরির অনুমতি না দেওয়া হয়, যা এআই মডেলের ‘সক্ষমতা নিজেরাই উত্তরোত্তর বাড়াতে ও উন্নত করতে পারে’, বিশেষ করে যতক্ষণ না ওপেনএআই এটা নিশ্চিত করছে যে, এসব মডেল পুরোপুরি মানব মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আইওয়া, কানসাস ও অ্যারিজোনার পাশাপাশি এই আইনি জোটে যোগ থাকা বাকি অঙ্গরাজ্যগুলো হল আরকানস, আইডাহো, মনটানা, নেবরাস্কা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া।
মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলো আইন লঙ্ঘনের জন্য ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মোটা অংকের আর্থিক জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
এ মামলার বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ওপেনএআই।
এদিকে, কেবল এ সরকারি যৌথ মামলায় নয়, ওপেনএআই বর্তমানে ব্যক্তি ও বিভিন্ন ভুক্তভোগীর দায়ের করা আরও কয়েক ডজন মামলার মুখেও পড়ে আছে।
এসব ব্যক্তিগত মামলাতেও অভিযোগ রয়েছে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের মানসিক বিকৃতি ঘটিয়ে নির্বিচারে গুলির মতো ভয়াবহ ঘটনা বা অন্যান্য নৃশংস সহিংসতার ছক তৈরিতে সরাসরি ইন্ধন যুগিয়েছে।
