১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

আইসিসি’র প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ আইনজীবীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতকে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বলে সমালোচনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

আইসিসি’র প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ আইনজীবীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
আইসিসি লোগো। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Aug 2026, 08:27 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:52 PM

আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং ঊর্ধ্বতন আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

যুদ্ধাপরাধ তদন্তের ক্ষমতাসম্পন্ন আদালতটি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টায় এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বসাম্প্রতিক পদক্ষেপ। বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশ আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ তদন্তের ক্ষমতাসম্পন্ন এই আদালতের সদস্য।

রুবিও বুধবার ওই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। তার দাবি, জাপানের নাগরিক আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়ে এখতিয়ার বহির্ভূত ভাবে কয়েক জন উচ্চপদস্থ মার্কিন সরকারি কর্মর্তাকে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) একটি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট আদালত। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর এই আদালতের আক্রমণ আমরা বরদাশত করব না।”

রুবিওর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরই আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের কর্মীদের পাশে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘রুবিওর ঘোষিত পদক্ষেপ আইনের শাসনকে দুর্বল করবে।” 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বা হোয়াইট হাউজ এখনও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

আইসিসির বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার প্রশাসন ইতোমধ্যেই আইসিসি’র অন্তত ১১ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৯ জন বিচারক এবং প্রধান কৌসুলি।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে সম্পদ জব্দ করা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ।

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তাদের নিয়ে আইসিসি-র তদন্ত এবং গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিশোধ হিসাবে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতকে ইহুদিবিদ্বেষের প্রভাবে প্রভাবিত বলে অভিযোগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল- কেউই আইসিসি-র সদস্যদেশ নয়।

তবে ফিলিস্তিন ২০১৫ সালে আইসিসির সদস্য হয়, যার ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা অপরাধগুলোর তদন্তের দ্বার খোলে আদালতে।

আইসিসি নিয়ে ট্রাম্পের বিরোধিতা যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রেসিডেন্সির প্রথম মেয়াদ থেকেই চলে আসছে। সে সময় তিনি প্রথম আইসিসিকে 'হুমকি' আখ্যা দিয়েছিলেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই আদালতের 'কোনও এখতিয়ার, বৈধতা বা কর্তৃত্ব নেই'।

গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও আইসিসি-এর ১২৫টি সদস্য দেশকে আদালতটি থেকে বেরিয়ে আসার আহবান জানান। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আইসিসি-কে বিলুপ্ত করে দেওয়ার প্রচারণার অংশ।