Published : 25 Dec 2025, 09:48 PM
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত।
মঙ্গলবার দেশটির বিশাখাপত্তনম উপকূলের কাছ থেকে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ‘আইএনএস আরিঘাট’ থেকে এই ‘কে-৪’ ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি লিখেছে, তিন হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক আক্রমণ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করল।
গত ২৯ অগাস্ট ভারতীয় নৌবাহিনীতে কে-৪ সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এর ফলে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় নাম লেখালো ভারত, যাদের স্থল, আকাশ ও সাগর, এই তিন ক্ষেত্র থেকেই পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা (নিউক্লিয়ার ট্রায়াড) রয়েছে।
অগ্নি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি কে-৪ হলো ভারতের দীর্ঘতম পাল্লার সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য কৌশলগত অস্ত্র। সাগর থেকে নিক্ষেপের উপযোগী করতে এর মূল সংস্করণে বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আড়াই টন ওজনের পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের ‘অরিহন্ত’ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো থেকে উৎক্ষেপণ করা যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কে-৪ হলো ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতার সবচেয়ে গোপনীয় অংশ। কারণ, আরিহান্ত শ্রেণির সাবমেরিনগুলো সমুদ্রের গভীরে দীর্ঘ সময় নিঃশব্দে অবস্থান করে টহল দিতে সক্ষম।
ক্ষেপণাস্ত্রের এই ‘কে’ সিরিজের নামকরণ করা হয়েছে ভারতের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট এপিজে আব্দুল কালামের সম্মানে। ভারতের ‘ইন্টিগ্রেটেড গাইডেড মিসাইল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এ তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।