Published : 16 May 2026, 01:56 AM
ইসরায়েলের আটকে রাখা ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের করের অর্থের কিছু অংশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘গাজা শান্তি পর্ষদ’ এর তহবিলে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে অনুরোধ জানাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন পাঁচ কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন।
তবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুরোধ জানানো হবে কি না সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ইসরায়েল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কর সংগ্রহ করে। একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনিদের হয়ে ইসরায়েল এই কর আদায় করে। সেই করের অর্থ ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের (পিএ) কাছেই ইসরায়েলের হস্তান্তর করার কথা।
কিন্তু ইসরায়েলের জেলে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদেরকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অজুহাতে ইসরায়েল এই অর্থ আটকে রেখেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাবমতে, আটকে রাখা এই করের অর্থের পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলার।
এই অর্থের একটি অংশ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সংস্কারের শর্তে দেওয়ার পাশাপাশি অপর অংশ গাজার জন্য গঠিত যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তহবিলে হস্তান্তরের প্রস্তাব বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুই ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন।
ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন শান্তি পর্ষদ বা (বোর্ড অব পিস) যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক কাজ তদারক করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই বোর্ডে সদস্যপদ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশকে অন্তত ১০০ কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
গাজার প্রশাসন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে এই পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা পরিকল্পনার আওতায় এই ফিলিস্তিনি ভূখন্ডটি পুনর্গঠনে আনুমানিক ৭ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন।
এই খরচ মেটাতে ফিলিস্তিনিদের করের অর্থ কাজে লাগানোর প্রস্তাব বিবেচনাধীনে রয়েছে কিনা- শান্তি পর্ষদ সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করদে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। শান্তি পর্ষদের এক কর্মকর্তা কেবল জানিয়েছেন, তারা যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সব পক্ষকেই সম্পদ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “এর মধ্যে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং ইসরায়েল উভয়ই রয়েছে। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, ব্যাংকে পড়ে থাকা টাকা প্রেসিডেন্টের ‘২০ দফার পরিকল্পনা’ এগিয়ে নিতে কোনও কাজে আসবে না।”
তার এই মন্তব্য মূলত ইসরায়েলের আটকে রাখা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের করের অর্থের দিকেই ইঙ্গিত করে। এই করের কত পরিমাণ অর্থ শান্তি পর্ষদের জন্য ইসরায়েলকে দিতে বলার কথা যুক্তরাষ্ট্র ভাবছে সে সম্পর্কে কিছু বলেননি কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, ইসরায়েল সরকার এবং ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ কেউই এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনও সাড়া দেয়নি।
তবে ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব করের অর্থ তাদের মতামত ছাড়াই ট্রাম্পের গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনায় ব্যয় করার সম্ভাবনা পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে (পিএ) আরও কোণঠাসা করে ফেলতে পারে।
ইসরায়েল করের টাকা আটকে রাখায় ইতিমধ্যেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে চরম আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। হাজার হাজার সরকারি কর্মচারির বেতন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে পিএ পশ্চিম তীরে সীমিত স্বায়ত্তশাসন ভোগ করলেও ২০০৭ সালে হামাসের সঙ্গে লড়াই-সহিংসতার পর থেকে গাজার ওপর তাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ‘শান্তি পর্ষদে’ যোগ দেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস অস্ত্র সমর্পণ করার পর ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেবে।
গত বুধবার জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের গাজা বিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেন, পুনর্গঠন পরিকল্পনার কাজ এখন অগ্রবর্তী পর্যায়ে রয়েছে।
কর বা ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয়টি উল্লেখ না করে ম্লাদেনভ বলেন, “আমরা প্রতিটি খাত ধরে ধরে কাজ করছি এবং খরচের হিসাব মেলাচ্ছি। আমরা দাতাদের সঙ্গেও সমন্বয় করছি। পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই আমরা পুরোদমে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত।”