Published : 23 Mar 2026, 02:10 PM
উত্তর লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি সংস্থার চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, তারা একে একটি ‘অ্যান্টিসেমিটিক’ বা ইহুদি-বিদ্বেষী অপরাধ হিসেবে ধরে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, “ইহুদি সম্প্রদায়ের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার চারটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং এই অগ্নিসংযোগকে ইহুদি-বিদ্বেষী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”
রয়টার্স জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সগুলো ইহুদি সম্প্রদায়গুলোর পরিচালিত ‘হাতজোলা’ নামের একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার, যারা জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। হিব্রু শব্দ ‘হাতজোলা’র অর্থ ‘উদ্ধার’ বা ‘ত্রাণ’।
এদিকে, লন্ডন দমকল পরিষেবা স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪০ মিনিটে এ ঘটনার বিষয়ে প্রথম ফোন পায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছয়টি ইঞ্জিন এবং ৪০ জন দমকলকর্মীকে পাঠায় তারা। এরপর রাত ৩টা ৬ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা।
দমকল পরিষেবা বলেছে, “গাড়িগুলোতে থাকা একাধিক সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে পাশের একটি ফ্ল্যাট ব্লকের জানালাগুলো ভেঙে গেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।”
রয়টার্স লিখেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলা এবং পরবর্তী গাজা যুদ্ধের পর থেকে বিশ্বজুড়ে ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনা অনেক বেড়েছে।
ব্রিটেনের প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ইহুদির নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শদাতা সংস্থা ‘কমিউনিটি সিকিউরিটি ট্রাস্ট’-র প্রধান নির্বাহী মার্ক গার্ডনার বলেন, “সম্প্রতি লিজ, রটারডাম এবং আমস্টারডামে ইহুদি-বিদ্বেষী অগ্নিসংযোগের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, এটি সেই ঘটনাগুলোরই প্রতিফলন।”
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রিটেনে ইহুদি-বিদ্বেষী অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে খবর।
গত বছর ব্রিটেনে সবচেয়ে বড় ইহুদি-বিদ্বেষী ঘটনা ছিল ম্যানচেস্টার হামলা, যেখানে ইহুদি ক্যালেন্ডারের পবিত্রতম দিন ইয়োম কিপ্পুর চলাকালীন হামলায় দুইজন উপাসনাকারী নিহত হন।