Published : 05 Jan 2026, 06:20 PM
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার পর দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস প্রথমে এ ঘটনার নিন্দা করে অটল মনোভাব নিয়ে কথা বললেও পরে সুরম করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রয়টার্স লিখেছে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের শনিবারের অভিযানকে প্রথমে ‘সম্পদ চুরির অবৈধ চেষ্টা’ বলে সমালোচনা করেছিলেন রদ্রিগেস। তিনি মাদুরোর মুক্তিও দাবি করেন। তবে রোববার রদ্রিগেস সংহতির সুরে যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ কাজ করা এবং সম্মানজনক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রদ্রিগেস বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে টেকসই সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান জোরদার করতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি সহযোগিতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
“প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, আমাদের জনগণ এবং এই অঞ্চল যুদ্ধ নয়, শান্তি ও সংলাপের দাবিদার।” মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মহলের মধ্যে অত্যন্ত বাস্তববাদী হিসেবে পরিচিত রদ্রিগেস বর্তমানে দেশটির তেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও রয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের দাবি না মানলে রদ্রিগেজেকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে।” এই হুমকির পরই রদ্রিগেসের কাছ থেকে সহযোগিতার ওই ইঙ্গিত এল।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প সাফ জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলা যদি তাদের তেল শিল্প উন্মুক্ত করা এবং মাদক পাচার বন্ধে সহযোগিতা না করে, তবে তিনি দেশটিতে আবারও হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।
ট্রাম্প বলেন, “তারা যা চুরি করেছে আমরা তা ফেরত নিচ্ছি। এখন আমরাই দায়িত্বে আছি। খুব শীঘ্রই মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় ফিরবে এবং দেশটির তেল শিল্প পুনর্গঠন করবে। তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং মাটির নিচ থেকে তেল বের করে আনবে।”
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রদ্রিগেস লেখেন, “ভেনেজুয়েলা শান্তি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। আমাদের দেশ বাইরের কোনও হুমকি ছাড়া পারস্পরিক সম্মান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবেশে বাস করতে চায়।”
ওদিকে, ৬৩ বছর বয়সী নিকোলাস মাদুরোকে সোমবার নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
শনিবার কারাকাসে মার্কিন বিশেষ কমান্ডো ইউনিট ‘ডেল্টা ফোর্স’-এর অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
মাদুরোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রকে সহায়তা করার এবং মাদক পাচারের রুট হিসেবে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করার অভিযোগ এনেছে মার্কিন প্রসিকিউটররা। তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও অপহরণ ও খুনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মাদুরো তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করবেন যে, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মাদুরো এই বিচার প্রক্রিয়ার আওতামুক্ত।
২০২০ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘নারকো-টেরোরিজম’ বা মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছিল।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভেনেজুয়েলার অভিবাসী ইস্যু এবং কয়েক দশক আগে দেশটির মার্কিন তেল সম্পদ জাতীয়করণের প্রতিশোধ হিসেবেই ট্রাম্প এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন।