Published : 22 May 2026, 01:33 PM
কানাডার সঙ্গেই থাকা হবে নাকি বিচ্ছিন্ন হওয়ার লক্ষ্যে দ্বিতীয় বাধ্যতামূলক ভোটের পথে এগিয়ে যাওয়া হবে—তা ঠিক করতে গণভোট হতে যাচ্ছে আলবার্টায়।
এর মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকার দেশটির একতা-ও কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
চলতি বছরের শুরুতে কানাডা থেকে স্বাধীন হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা এক আবেদনে ৩ লাখের বেশি স্বাক্ষর পড়েছিল; অপরদিকে কানাডার সঙ্গে থেকে যেতে চাওয়া আরেক আবেদনে পড়ে ৪ লাখের বেশি স্বাক্ষর। পাল্টাপাল্টি এ আকাঙ্ক্ষার মধ্যে আলবার্টাবাসী কোন দিকে যেতে চায় তা জানতেই বৃহস্পতিবার প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডেনিয়েল স্মিথ গণভোটের ঘোষণা দেন।
তেল-সমৃদ্ধ এ প্রদেশটি অটোয়ার নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ পায় না—এমন অভিযোগ থেকে আলবার্টায় স্বাধীনতার আন্দোলন ক্রমশ গতি পাচ্ছে।
তবে এখনও সেখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাই যে কানাডার সঙ্গেই থাকতে চান একাধিক জনমত জরিপে তা দেখা যাচ্ছে।
এ নিয়ে আগামী ১৯ অক্টোবর প্রাদেশিক গণভোট হবে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী স্মিথ।
টেলিভিশনে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, আসছে শরতে আলবার্টাবাসী সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন, যেখানে জানতে চাওয়া হবে—আলবার্টা কী কানাডার প্রদেশ হিসেবে থেকে যাবে, নাকি এখানকার সরকার কানাডার সংবিধানে যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে সে অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া চালু করে, প্রদেশটি কানাডা থেকে আলাদা হবে কিনা সে বিষয়ে দ্বিতীয় আরেকটি গণভোটের আয়োজন করবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে কানাডায় থেকে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেবেন। তার সরকার ও দলীয় সংসদ সদস্যদের অবস্থানও একই।
আদিবাসী ফার্স্ট নেশনস জাতিগোষ্ঠী তাদের সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা না করে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ আনার পর বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে গণভোট চেয়ে করা এক আবেদন আলবার্টার এক বিচারক খারিজ করে দেওয়ায় ‘গভীর উদ্বেগও’ প্রকাশ করেছেন স্মিথ।
আদালতের ওই আদেশের পর আবেদনে স্বাক্ষরকারীদের যাচাইয়ের প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়, গণভোটের সম্ভাবনাও মুথ থুবড়ে পড়ে।
“মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে, কয়েক লাখ মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করা এক বিচারকের আইনি ভুল কার্যকর হতে দেব না। আলবার্টার জনগণই আলবার্টার ভবিষ্যৎ ঠিক করবে, আদালত নয়,” বৃহস্পতিবার এমনটাই বলেন স্মিথ।
অবাধ ও গণতান্ত্রিক সমাজ বিবেচনায় কানাডার অন্য অংশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই আলবার্টার বেশি মিল রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কানাডার ভৌগোলিক অখণ্ডতা এর আগেও প্রশ্নের মুখে পড়েছিল।
স্বাধীনতা প্রশ্নে দুইবার ভোট হয়েছে ক্যেবেকে। শেষবার ১৯৯৫ সালে সেখানে ‘না’ জিতেছিল ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ ভোট, ‘হ্যাঁ’ পেয়েছিল ৪৯ দশমিক ২২ শতাংশ।
এরপর দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার নিয়ম সুনির্দিষ্ট করে বানানো হয় ‘ক্ল্যারিটি অ্যাক্ট’, তাতে স্বাধীনতাকামীদের কেবল গণভোটে জিতলেই চলবে না, আরও অনেক বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে।
এর অর্থ হল, অক্টোবরের গণভোটে কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে রায় এলেও আলবার্টার সামনে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পথ পড়ে রয়েছে।