Published : 16 Apr 2026, 08:50 PM
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধ উপেক্ষা করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ইরানের দ্বিতীয় একটি সুপারট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
জাহাজ চলাচলের উপাত্ত (শিপিং ডেটা) বিশ্লেষণ করে বুধবার এই তথ্য পাওয়া গেছে।
গত রোববার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সোমবার থেকে ইরানি বন্দরে সব ধরনের জাহাজ যাতায়াতের ওপর অবরোধের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
পাল্টাপাল্টি দাবি:
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, সোমবার অবরোধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি জাহাজকে তারা ফেরত পাঠাতে বাধ্য করেছে এবং কোনো জাহাজই এই অবরোধ ভাঙতে পারেনি।
তবে ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা বুধবার দাবি করেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা একটি ইরানি সুপারট্যাঙ্কার অবরোধ উপেক্ষা করে দেশটির ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে জাহাজটির নাম বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।
ডেটা বিশ্লেষণ সংস্থা এলএসইজি এবং কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনে সক্ষম ‘আরএইচএন’ নামের একটি বিশালাকার খালি সুপারট্যাঙ্কার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। জাহাজটি ঠিক কোন দিকে যাচ্ছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর মাত্র একদিন আগে ‘অ্যালিসিয়া’ নামের আরও একটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকবলিত সুপারট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি পার হয়েছিল। কেপলার-এর তথ্য বলছে, অ্যালিসিয়া বর্তমানে ইরাকের দিকে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই দুটি ট্যাঙ্কারেরই গত কয়েক বছরে ইরানি তেল পরিবহনের রেকর্ড রয়েছে।
এদিকে ‘রিচ স্টারি’ নামের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি ট্যাঙ্কারকে মার্কিন বাহিনী বুধবার ফেরত পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন করে আলোচনার আগে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই ওয়াশিংটন এই নৌ-অবরোধের পথে হেঁটেছে। এছাড়া ইরানি তেল ক্রেতাদের ওপর পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
যদিও এই অবরোধের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে কেপলার-এর তথ্য বলছে, ওপেকের সদস্য দেশটি বর্তমানে প্রতিদিন ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে। স্থলভাগে বিশাল মজুদ সক্ষমতা থাকায় ইরান এই উৎপাদন মাত্রা আরও কয়েক সপ্তাহ বজায় রাখতে পারবে।
গত মার্চে ইরান দৈনিক গড়ে ১৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। এপ্রিলের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তাদের দৈনিক রপ্তানি ছিল ১৭ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল।