চীনে অস্ট্রেলিয়ার লেখক ইয়াং হেংজুনের স্থগিত মৃত্যুদণ্ড

দুই বছর পর তার সাজা কমিয়ে তাকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে- বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Feb 2024, 01:10 PM
Updated : 5 Feb 2024, 01:10 PM

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অস্ট্রেলীয় লেখক ইয়াং হেংজুনকে স্থগিত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে চীনের একটি আদালত। গ্রেপ্তার এবং অভিযুক্ত হওয়ার পাঁচ বছর পর হেংজুনকে এই সাজা দেওয়া হল।

এই দণ্ডাদেশের মানে হচ্ছে, আগামী দুই বছর সাজা স্থগিত থাকবে। এ সময়ের মধ্যে বন্দি মারাত্মক আর কোনও অপরাধ না করলে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে তাকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা জানিয়েছেন।

চীন তিনবছরের রুদ্ধদ্বার বিচারের পর হেংজুনকে এ সাজা দিয়েছে। হেংজুন একজন পন্ডিত ও ঔপন্যাসিক। তিনি চীনের রাষ্ট্রীয় বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখতেন। তার বিরুদ্ধে আনা গুপ্তরবৃত্তির অভিযোগ হেংজুন অস্বীকার করেছেন।

তাকে দেওয়া চীনের সাজা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যসহ অন্যান্য আরও বিষয় নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টানাপোড়েনের সম্পর্ক এ রায়ের ফলে আরও অবনতির দিকে যাওয়ারই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

বিবিসি জানায়, গতবছরের শেষ দিকেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ চীন সফরে গিয়েছিলেন। তারপরই হেংজুনের সাজা হওয়ার এই খবর এল।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এরই মধ্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করে সোমবার চীনের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া জোরালো ভাষায় চীনকে এর প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওং এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা বরাবরই হেংজুনের জন্য ন্যায়বিচারের মৌলিক মানদণ্ড , পদ্ধতিগত সচ্ছ্বতা রক্ষা এবং মানবিক আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে এসেছি। সব অস্ট্রেলিয়ই চায় হেংজুন তার পরিবারে ফিরে যাক।”

অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা হেংজুনের প্রতি চীনের আচরণ নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এই মামলায় হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিল এবং দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সম্মান দেখাতে বলেছিল।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন সাংবাদিকদের বলেছেন, হেংজুনের বিচার আইন মেনে যথাযথভাবেই করা হয়েছে এবং তার কনস্যুলার অধিকারও রক্ষা করা হয়েছে।

তবে হেংজুনের সমর্থকরা তার দণ্ডাদেশকে রাজনৈতিক নিপীড়ন বলে বর্ণনা করেছে।

হেংজুন নিউ ইয়র্কে বাস করছিলেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি তার চীনা স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গুয়াংঝুতে বেড়াতে গেলে বিমানবন্দরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।