Published : 28 Jan 2026, 04:35 PM
পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে দুই ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার পর প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণের ওপর ভারত কড়া নজর রাখছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ভাইরাসটি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ার পর দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ বিমান যাত্রীদের বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কঠোর নজরদারির আওতায় এনেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
থাইল্যান্ড বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নজরদারিতে কড়াকড়ি আরোপের পর মালয়েশিয়াও একই পথে হাঁটার ঘোষণা দেয়। এরপর ভারত সরকার আক্রান্তের সংখ্যা জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়।
“নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে অনুমাননির্ভর ও অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে,” আক্রান্তের সংখ্যা ২ জানিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ১৯৬ জনকে শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ, তাদের কারও দেহে ভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি, পরীক্ষায় সবার দেহই ভাইরাসমুক্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বলেছে তারা।
এর আগে একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে ৫ জনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যেসব জায়গায় আছে সেখান থেকে আসা বিমানগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা করে দিয়েছে থাইল্যান্ড। ইমিগ্রেশন পার হওয়ার আগে যাত্রীদেরও তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য জানাতে হবে।
মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারগুলোতে নিপা ভাইরাসের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো থেকে আগতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস মোকাবেলার প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
“বেশকিছু দেশে বিচ্ছিন্ন কিছু সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে, তা সত্ত্বেও সীমান্ত পেরিয়ে আসা সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবেলায় মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে,” বুধবার দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে তারা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমান অনুযায়ী, নিপা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত; তারা একে মহামারী সৃষ্টি করতে সক্ষম গুরুতর সংক্রামক ভাইরাস হিসেবেও দেখে।
এর সংক্রমণ প্রতিরোধে কোনো টিকা নেই, আক্রান্ত ব্যক্তির সেরে ওঠার জন্য কোনো চিকিৎসাও নেই।
নিপা ভাইরাস কী?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, নিপা একটি ‘জুনোটিক’ ভাইরাস, যা মূলত ফলখেকো বাদুড় বা শুকরের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ বা দূষিত খাবারের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।
লক্ষণ: প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর, মাথাব্যথা, বমিভাব ও গলাব্যথা দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে এনসেফেলাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ), খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
ঝুঁকি: এই ভাইরাসে মৃত্যুহার অনেক বেশি। বর্তমানে নিপা ভাইরাসের কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই। অনেক সময় রোগীর মধ্যে প্রথমে কোনও লক্ষণ দেখা যায় না, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০০১ ও ২০০৭ সালেও নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। তাছাড়া, ভারতের কেরালা রাজ্যে গত কয়েক বছরে প্রায় নিয়মিত এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাদুড়ের কামড়ানো আধা-খাওয়া ফল বা কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে এই ভাইরাস বিস্তারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
ভারতে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব: এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি