Published : 12 Aug 2026, 02:52 PM
ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন দ্বীপ বালি থেকে ছেড়ে আসা একটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজনের মৃত্যু হলেও কর্তৃপক্ষ আরও ১৭২ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লম্বোক দ্বীপের কাছাকাছি আসার পর ফেরিটিতে আগুন লাগে। আর কোনো যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন কি না তা সন্ধান করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ হারিয়াদি রয়টার্সকে জানান, কেএম পুত্রি ইয়াসমিন ফেরি বালির পাদাংবাই বন্দর থেকে পশ্চিম নুসা তেংগারা প্রদেশের লম্বোক দ্বীপের লেম্বার বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। স্থানীয় সময় বুধবার ভোর ৪টা ৩৯ মিনিটের দিকে লম্বোক প্রণালিতে পৌঁছানোর পর ফেরিটিতে আগুন লাগে।
বুধবার বিকালের মধ্যে একজন ইন্দোনেশীয়র মৃত্যু নিশ্চিত হয় এবং আরও ১৭২ জনকে উদ্ধার করে বালি ও লম্বোকের বন্দরগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয়। জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন অস্ট্রেলীয় আর বাকি সবাই ইন্দোনেশীয়।
হারিয়াদি বলেন, “লোকজনকে সরিয়ে নিতে ও ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা নৌকাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে আমরা কিছু নৌকা মোতায়েন করেছি। উদ্ধার অভিযান চালাতে দুই শতাধিক উদ্ধার কর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছে।”
কীভাবে ফেরিটিতে আগুন লেগেছে বা অতিরিক্ত যাত্রী একটি বিষয় ছিল কি না, তা পরিষ্কার হয়নি।
এর আগে বালির পাদাংবাই বন্দরের কর্মকর্তা হেরি উইয়ান্তো স্থানীয় গণমাধ্যম কোম্পাস টেলিভিশনকে জানিয়েছিলেন, ফেরিটির যাত্রী তালিকায় মাত্র ১১৪ জন যাত্রী ও ১৭ ক্রু সদস্যের নাম ছিল।
এই ঘটনার সপ্তাহ দুয়েক আগে মাদুরা দ্বীপের উপকূলে আরেকটি ফেরিতে আগুন লেগে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। এই ফেরিটিও নথিভুক্ত যাত্রীর বাইরে আরও লোকজন বহন করছিল।
প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়া পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যাপকভাবে ফেরির ওপর নির্ভরশীল। বিমান ভ্রমণের তুলনায় সমুদ্রপথগুলো বেশি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় লোকজন এ পথেই বেশি যাতায়াত করে। কিন্তু নিরাপত্তার মানদণ্ডগুলো প্রায়ই কঠোরভাবে কার্যকর না হওয়ায় দেশটিতে ফেরি দুর্ঘটনার হার তুলনামূলক বেশি।