Published : 02 Feb 2026, 09:28 PM
মিয়ানমারের কুখ্যাত অনলাইন প্রতারণা চক্র বা স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনাকারী কুখ্যাত মাফিয়া ‘বাই’ পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।
গুয়াংডং প্রদেশের একটি আদালত জালিয়াতি, নরহত্যা, শারীরিক জখম এবং অন্যান্য অপরাধে এই পরিবারের ২১ সদস্য ও সহযোগীকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল; তাদের মধ্যেই ছিলেন এই চারজন।
গত নভেম্বরে আদালত এই চক্রের পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর মধ্যে চক্রটির প্রধান বাই সুওচেংও ছিলেন, তবে সাজা ঘোষণা হওয়ার পর তিনি অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্ক্যাম অপারেশন বা প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে চীন ‘মিং’ মাফিয়া পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এসব প্রতারণা চক্রে বেশিরভাগই চীনা নাগরিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
বিবিসি লিখেছে, কয়েক বছর ধরে বাই, মিং এবং আরও কয়েকটি মাফিয়া পরিবার মিয়ানমারের সীমান্ত শহর লাউকাইং-এ আধিপত্য বিস্তার করে আসছে, যেখানে তারা ক্যাসিনো, নিষিদ্ধ পল্লী এবং সাইবার প্রতারণা কেন্দ্র পরিচালনা করে।
আটক হওয়ার পর বাই সুওচেং-এর ছেলে এর আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, এই মাফিয়া গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বাই পরিবারই ছিল ‘এক নম্বর’।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাই পরিবার তাদের নিজস্ব মিলিশিয়া বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করত। সাইবার অপরাধ ও ক্যাসিনো পরিচালনার জন্য ৪১টি কম্পাউন্ড বা আস্তানা স্থাপন করেছিল তারা। ওই আস্তানাগুলোর চারদেয়ালের ভেতরে মারধর ও নির্যাতন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।
আদালত জানিয়েছে, বাই পরিবারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে ছয়জন চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, একজন আত্মহত্যা করেছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
২০০০ সালের শুরুর দিকে মিন অং হ্লাইং-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক সামরিক অভিযানে লাউকাইং-এর তৎকালীন যুদ্ধবাজ নেতা উৎখাত হওয়ার পর বাই পরিবার ক্ষমতায় আসে। মিন অং হ্লাইং বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক সরকার প্রধান।
তৎকালীন সামরিক নেতা সহযোগিতামূলক মিত্র খুঁজছিলেন এবং সেই সময় ওই যুদ্ধবাজ নেতার ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাই সুওচেং সেই পদের জন্য উপযুক্ত ছিলেন।
কিন্তু ২০২৩ সালে এই পরিবারগুলোর সাম্রাজ্যের পতন ঘটে, যখন প্রতারণা কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় চীন ক্ষুব্ধ হয় এবং পরোক্ষভাবে ওই এলাকার জাতিগত বিদ্রোহীদের অভিযানকে সমর্থন দেয়।
এটি ছিল মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। এর ফলে ওই প্রতারণা চক্রের মাফিয়ারা ধরা পড়ে এবং তাদের সদস্যদের বেইজিংয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
চীনে তারা রাষ্ট্রীয় প্রামাণ্যচিত্রের বিষয়ে পরিণত হয়, যেখানে এই প্রতারণা নেটওয়ার্ক নির্মূলে চীনা কর্তৃপক্ষের সংকল্পের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মাধ্যমে চীন সম্ভাব্য প্রতারকদের কাছে একটি কঠোর সতর্কবার্তা দিতে চাইছে বলে মনে হচ্ছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য স্থানে অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র পরিচালনার জন্য কয়েক লাখ মানুষকে পাচার করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে হাজার হাজার চীনা নাগরিক রয়েছেন এবং যাদের কাছ থেকে তারা কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে সেই ভুক্তভোগীরাও মূলত চীনা নাগরিক বলে জানিয়েছে বিবিসি।