Published : 19 Jan 2026, 09:47 AM
স্পেনে একটি হাইস্পিড ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার পর অন্য লাইন ধরে এগিয়ে আসা আরেকটি হাইস্পিড ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন, জানিয়েছে দেশটির সিভিল গার্ড।
রোববার স্থানীয় সময় রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে ঘটা এ সংঘর্ষে লাইনচ্যুত ট্রেনটির ধাক্কায় দ্বিতীয় ট্রেনটি লাইন থেকে ছিটকে একটি বাঁধের কাছে গিয়ে পড়ে। রাজধানী মাদ্রিদ থেকে ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে আন্দালুসিয়া অঞ্চলের কর্দোবা শহরের কাছে আদামুজে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, জানিয়েছে বিবিসি।
স্পেনের রেল নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় দুই ট্রেনে প্রায় চারশ যাত্রী ও কর্মী ছিলেন।
আন্দালুশিয়ার জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, আহত অন্তত ৭৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে চারটি শিশুসহ ২৪ জনের আঘাত গুরুতর।

স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে এই দুর্ঘটনাকে ‘অত্যন্ত অদ্ভুত’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ দুর্ঘটনার বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করেছেন কর্মকর্তারা।
সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করা সব রেলওয়ে বিশেষজ্ঞরা এ দুর্ঘটনার ধরনে ‘অত্যন্ত হতবাক হয়েছেন’ বলে মাদ্রিদের আতোচা স্টেশনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন তিনি।
রেল নেটওয়ার্ক অপারেটর আদিফ জানিয়েছে, লাইনচ্যুত ট্রেনটি মালাগা থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে মাদ্রিদের পথে রওনা হয়েছিল। এর ১০ মিনিটের মধ্যে ট্রেনটি ট্র্যাক বরাবর লাইনচ্যুত হয়ে অন্য লাইন ধরে দ্রুতগতিতে আসাতে থাকা মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী দ্বিতীয় ট্রেনটিকে আঘাত করে। এতে দ্বিতীয় ট্রেনটিও লাইনচ্যুত হয়।
পুয়েন্তে জানান, সংঘর্ষের ধাক্কায় দ্বিতীয় ট্রেনটির কয়েকটি বগি পাশের বাঁধে গিয়ে পড়ে। হতাহতদের অধিকাংশই এই বগিগুলোর আরোহী।

আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ানমা মোরেনো সোমবার ভোররাতে সাংবাদিকদের বলেন, “যে গতিতে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। সম্ভবত আরও মৃতদেহ পাওয়া যাবে।”
ট্রেনগুলোর দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া ধাতুর অংশগুলো সরিয়ে হতাহতদের খুঁজে বের করতে ভারী মেশিনপত্র লাগবে বলে জানান তিনি।
রয়টার্স জানায়, দুই ট্রেনের যাত্রীদের অধিকাংশই ছিলেন স্পেনীয়। সাপ্তাহিক ছুটি শেষে তারা মাদ্রিদে ফিরছিলেন অথবা মাদ্রিদ থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছিলেন।
ট্রেন দুটিতে কতোজন পর্যটক ছিলেন তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি। স্পেনে জানুয়ারি ছুটির মৌসুম নয়।
স্পেনের এল পায়িস সংবাদপত্র জানিয়েছে, মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী দ্বিতীয় ট্রেনটির ২৭ বছর বয়সী চালকও নিহত হয়েছেন।

লাইনচ্যুত হওয়া মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী প্রথম ট্রেনটির যাত্রী মারিয়া সান হোসে (৩৩) এল পায়িসকে বলেন, “অনেকে আহত হয়েছেন। (আতঙ্কে) আমি এখনও কাঁপছি।”
দ্বিতীয় ট্রেনটির এক যাত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম টিভিইকে বলেন, “লোকজন চিৎকার করছিল, তাদের ব্যাগগুলো শেলফ থেকে ছিটকে পড়ে। চতুর্থ বগিতে করে আমি হুয়েলভায় যাচ্ছিলাম আর সৌভাগ্যক্রমে সেটাই শেষ বগি ছিল।”
এল পায়িস জানিয়েছে, ঘটনার সময় হুয়েলভাগামী দ্বিতীয় ট্রেনটি ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে চলছিল। লাইনচ্যুত হওয়ার সময় প্রথম ট্রেনটির গতি কতো ছিল তা পরিষ্কার হয়নি।
ইতালিয়ান রেল কোম্পানি ফেরোভিয়ে দেল্লো স্তাতোর এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় যে ট্রেনগুলো জড়িয়েছে সেগুলো ফ্রেইচ্চা ১০০০ টাইপের, এগুলোর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।