Published : 12 Sep 2025, 09:14 PM
কয়েকদিনের সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নেপালের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক ঘোষণায় জানিয়েছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিই দেশের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯ টাতেই তিনি শপথ নিচ্ছেন।
ভারতীয় পত্রিকা এনডিটিভি জানায়, নেপালের জেন-জি আন্দোলকারী, প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌডেল এবং সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেলের মধ্যে আলোচনায় মতৈক্য হওয়ার পরই কার্কিকে প্রধানমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলে নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইতিহাস গড়বেন সুশীলা কার্কি। তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারে থাকবে ছোট্ট একটি মন্ত্রিসভা।
এই মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হবে রাতেই। মন্ত্রিসভা খুব সম্ভবত কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টসহ ৭ টি প্রাদেশিক পার্লামেন্টও ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে নেপালে গত তিনদিনের টানা বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন হয়।
এরপর বুধবার আন্দোলনকারীরা কার্কিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী করতে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু এর ২৪ ঘন্টা পরই আন্দোলনকারীদের মধ্যে মতপার্থক্যের খবর মেলে।
শোনা যায়, প্রকৌশলী কুলমান ঘিসিংকে প্রধানমন্ত্রী পদে চাইছেন আন্দোলনকারীদের অনেকে, যিনি নেপালের বিদ্যুৎ সংকট সমাধান করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
এক বিবৃতিতে তার নামও প্রস্তাব করেছিল আন্দোলনকারীরা। আর সবার প্রথমে নাম শোনা গিয়েছিল রাজধানী কাঠমাণ্ডুর নির্দল মেয়র বলেন্দ্র শাহের।
কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী শাহ প্রধানমন্ত্রী হতে আগ্রহী ছিলেন না। বরং তিনি প্রকাশ্যে কার্কির পক্ষেই সমর্থন জানান।
সুশীলা কার্কি নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন তিনি।
জেন-জি (তরুণ প্রজন্ম)- যাদের নেতৃত্বে আন্দোলনে পতন ঘটেছে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকারের, তাদের মধ্যে সুশীলা কার্কির জনপ্রিয়তা আছে।
সততা, ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য পরিচিত তিনি। বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্কির কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি জনপ্রিয়।
বিচারপতি থাকাকালে ক্ষমতাসীন মন্ত্রীকে জেলে পাঠানো থেকে শুরু করে সরাসরি সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতেও পিছপা হননি কার্কি।