Published : 20 Apr 2026, 07:50 PM
যুক্তরাজ্যের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশকারীদের ওপর নজরদারি বা গোয়েন্দাগিরি করার জন্য সাবেক সামরিক গোয়েন্দাদের পরিচালিত একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাকে অর্থ দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ইংলিশ এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিক গোষ্ঠী লিবার্টি ইনভেস্টিগেটস এর যৌথ অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, ‘হোরাস সিকিউরিটি কনসালটেন্সি লিমিটেড’ নামের একটি সংস্থা শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোতে নজরদারি চালিয়েছে এবং গোপনে সন্ত্রাসবিরোধী ঝুঁকি মূল্যায়ন তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে সেরা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সংস্থাটি এই নজরদারি চালিয়েছে।
হোরাস সিকিউরিটি কনসালটেন্সি লিমিটেড নিজেদের ‘শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। ২০২২ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে সংস্থাটি অন্তত ৪ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড পেয়েছে।
যাদের ওপর নজরদারি চালানো হয় তার মধ্যে আছেন এক ফিলিস্তিনি শিক্ষক। ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হলে তার ওপর গোপনে নজরদারি চালানো হয়।
আরও আছেন, ‘লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকস’ এর ফিলিস্তিনপন্থি এক পিএইচডি শিক্ষার্থী। তার সোশাল মিডিয়া পোস্টও সংস্থাটি ট্র্যাক করেছে।
মোট ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য নিরাপত্তা সংস্থাটিকে অর্থ দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-
*অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি
* ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন
* ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল)
* কিংস কলেজ লন্ডন (কেসিএল)
* লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স
* ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ড
* ইউনিভার্সিটি অব লেস্টার
* ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল
*ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি
* ইউনিভার্সিটি অব নটিংহাম
*কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি
তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশ কয়েকটি নজরদারির বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনও জবাব দেয়নি।
শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব পড়তে পারে এমন বিষয়গুলোতে ‘হোরাইজন স্ক্যান’ এর জন্য বহির্মুখী পরিষেবা দেয়।
এতে শিক্ষার্থীদের কোনও কর্মসূচি নিরুৎসাহিত করার কোনও অভিপ্রায় নেই বলে বিশ্ববিদ্যালয়টি দাবি করেছে।
ওদিকে, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন বলেছে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারির জন্য হোরাস লিমিটেডকে কোনও অর্থ দেয়নি, বরং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি চিহ্নিত করার জন্য হোরাস লিমিটেডকে কাজে লাগিয়েছে।
হোরাস সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা টিমের একটি প্রজেক্ট হিসাবে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোনাথন হোয়াইটলির পরিচালনায়।
পরে ২০২০ সালে সংস্থাটির পরিচালক হন কর্নেল টিম কলিন্স। বর্তমানে সংস্থাটির চার ঊর্ধ্বতন নেতার মধ্যে তিনি একজন।
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত এই নিরাপত্তা সংস্থা বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে ৪৪৩,৯৪৩ পাউন্ড পেয়েছে।
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি জিনা রোমেরো এ বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, ওপেন সোর্স গোয়েন্দা কার্যক্রমের আড়ালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা আইনিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জো গ্রেডি আল-জাজিরাকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের শিক্ষার্থীদের পেছনে গোয়েন্দাগিরি করতে লাখ লাখ পাউন্ড অপচয় করেছে। এটি লজ্জাজনক।”