Published : 01 Mar 2026, 01:40 AM
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে বলছে ইরান।
কাস্পিয়ান পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার এক ঘোষণায় ইরানি নৌবাহিনী বলেছে, ওই নৌপথ দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশনের এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স লিখেছে, ইরান সরকারের তরফে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও জাহাজগুলো ভিএইচএফ চ্যানেলে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের কাছ থেকে এই বার্তা পাচ্ছে যে, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।”
বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান।
ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।


বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা যায়।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল, ইরান আক্রান্ত হলে এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, ফলে দাম হু হু করে বাড়বে।
তেল যেহেতু বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তাই দামের যে কোনো উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে।
ইসরায়েলের হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতোমধ্যে ১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৮ দশমিক ৫ ডলারে পৌঁছেছে।
ক্যাসপিয়ান পোস্ট লিখেছে, হরমুজ বন্ধের প্রভাবে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম বেড়ে ২৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।