ব্রিটিশ নৌ ও বিমানবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা ইরানের, এমআই৬ ‘শত্রু’
গত বছর জুড়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সরকারের কর্মকান্ডের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের নৌ ও বিমানবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-কে শত্রু সংস্থা ঘোষণা করেছে ইরান।
গত বছর জুড়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সরকারের কর্মকান্ডের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় রোববার এই ঘোষণা দিয়েছে। এতে লন্ডন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তেহরানের নিরাপত্তা আইনের নজরদারিতে চলে এল।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্য সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে, এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে তাদের ঘাঁটি ও লজিস্টিক (যোগাযোগ ও রসদ) সুবিধা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া।
তাছাড়া, ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইন ভাঙারও অভিযোগ করেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। বিশেষ করে অন্য দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান না করা এবং বেআইনি হস্তক্ষেপের কথা এক বিবৃতিতে বলেছে তারা।
পাশাপাশি, ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই যুক্তরাজ্যের একটি সিদ্ধান্তের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে ইরানি মন্ত্রণালয়। ওই দিন যুক্তরাজ্য সরকার ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর-কে 'স্টেট থ্রেটস অ্যাক্ট ২০২৬'-এর আওতাভুক্ত করেছিল।
নতুন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ নভেম্বর, ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-কে 'শত্রু সংস্থা' হিসেবে ধরা হবে এবং একই দিন থেকে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌ বাহিনী এবং বিমান বাহিনীকে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে গণ্য করা হবে।
এই পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার্থে আন্তর্জাতিক আইন এবং পারস্পরিক নীতির ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
