Published : 18 Dec 2025, 08:38 PM
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হুঁশিয়ার করে বলেছেন, কিইভ এবং ইউরোপীয় রাজনীতিবিদরা শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় না আসলে রাশিয়া জোর করে ইউক্রেইনের আরও ভূমি দখল করে নেবে।
যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে। আলাদাভাবে ইউরোপ এবং ইউক্রেইনের সঙ্গেও আলোচনা করেছে। ইউক্রেইন যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব নিয়ে এ আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনও চুক্তি হয়নি।
শান্তি প্রস্তাবে ইউক্রেইনকে রাশিয়ার কাছে ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার যে শর্ত রাখা হয়েছে সেটি নিয়ে কিইভ এবং এর ইউরোপীয় মিত্ররা উদ্বিগ্ন। তাছাড়া, ইউক্রেইন শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের জন্য আরও জোরাল নিরাপত্তা চায়।
পুতিন রাশিয়ায় প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়ের এক বার্ষিক বৈঠকে বলেন, রাশিয়া সব ফ্রন্টে এগিয়ে চলেছে এবং তাদের লক্ষ্য জোর করে কিংবা কূটনৈতিক পন্থায় যেভাবেই হোক অর্জন করবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিপক্ষ এবং তাদের বিদেশি মিত্ররা বাস্তবিক শান্তি আলোচনায় জড়িত হতে না চাইলে রাশিয়া তাদের ঐতিহসিক সব ভূমি সামরিক পন্থায় মুক্ত করবে।”
ইউরোপীয় নেতাদেরকে ‘শুকরের বাচ্চা’ বলে গালিও দিয়েছেন পুতিন। তিনি বলেন, প্রত্যেকেই ভেবেছিল খুব কম সময়ে তারা রাশিয়াকে ধ্বংস করতে পারবে। আর শুকর ইউরোপ তাৎক্ষণিকভাবে আগের আমেরিকান প্রশাসনের কাজে যোগ দিয়েছিল আমাদের দেশের পতন থেকে লাভবান হওয়ার আশায়।”
তিনি বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসন যখন শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রস্তুতি দেখাল, তখন দেখা যাচ্ছে যে, বর্তমান রাজনৈতিক অভিজাতমন্ডলীদের সঙ্গে নিয়ে সেটি আর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।”
ইউক্রেইন এবং এর পশ্চিমা মিত্রদেশগুলো রাশিয়ার শুরু করা যুদ্ধকে একটি দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং বিনা উস্কানিতে আগ্রাসন হিসাবেই দেখে।
রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেইনের প্রায় ১৯ শতাংশ ভূখন্ড তাদের দখলে, যার মধ্যে আছে ক্রাইমিয়া উপদ্বীপও, যেটা তারা ২০১৪ সালে দখল করে নিয়েছিল। এছাড়াও আছে- ডনবাস, খেরসনের বেশিরভাগ অংশ, জাপোরিঝিয়া এবং আরও চারটি অঞ্চলের কিছু জায়গা।
ক্রাইমিয়াসহ ডনবাস, খেরসন এবং জাপোরিঝিয়া এখন রাশিয়ারই অংশ বলে দাবি মস্কোর। কিন্তু ইউক্রেইন বলছে তারা এটা কখনওই মেনে নেবে না। আর অন্যান্য সব দেশও এই অঞ্চলগুলোকে ইউক্রেইনের ভূখন্ড বলেই বিবেচনা করে।
ইউরোপীয় নেতারা বলেছেন, তারা কিইভের পাশে আছেন। আর ইউক্রেইনে যুদ্ধ শুরু করার জন্য রাশিয়াকে পুরষ্কৃত করা উচিত নয়। তাছাড়া, রাশিয়ার আসলে শান্তি আলোচনায় আসার ইচ্ছা নেই বলেও কিছু ইউরোপীয় নেতা অভিযোগ করে থাকেন।