Published : 06 Jun 2025, 11:56 PM
ভারত-কানাডা সম্পর্কের বরফ গলার আভাস মিলেছে। কানাডায় জি৭ সম্মেলনে ভারত যোগ দেবে কি না এ নিয়ে জল্পনার মাঝেই এতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন হতে চলেছে ৫১তম জি৭ সম্মেলন। এবার সম্মেলনের আয়োজক দেশ কানাডা। শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন করে তাকে আমন্ত্রণ জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
গত দুই বছর ধরে কানাডা-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়ের চলে আসলেও কার্নির আমন্ত্রণে মোদী জানান, তিনি বৈঠকে যোগ দিতে উন্মুখ।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদী এ-ও বলেছেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর ফোন পেয়ে তিনি আনন্দিত। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি।
কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সরকারিভাবে এটিই মোদীর সঙ্গে তার প্রথম আলাপ। কানাডার সাম্প্রতিক নির্বাচনে কারনির নিরঙ্কুশ জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার এই আলাপকে গুরুত্ব সহকারেই দেখা হচ্ছে।
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের কানানাস্কিসে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবারের জি৭ সম্মেলন। জি৭ জোটের সাতটি দেশ হচ্ছে—ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা।
তবে রীতি অনুযায়ী, এই সম্মেলনের আয়োজক দেশ জি৭ জোটের বাইরে থাকা কিছু দেশকেও অতিথি হিসাবে বৈঠকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।
কিন্তু এতদিন ভারতের কাছে কানাডার পক্ষ থেকে এমন কোনও আমন্ত্রণ না আসায় জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই জল্পনা প্রকট হয়েছিল বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়ার কারণে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা না করেই বিরোধীদল কংগ্রেস দাবি করেছিল, জি৭ সম্মেলনে মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এটিকে ভারতের আরেক কূটনৈতিক ব্যর্থতা আখ্যা দেয় তারা।
এতে জল্পনা ছড়ায় যে, দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় নরেন্দ্র মোদী এবার কানাডায় অনুষ্ঠেয় জি৭ সম্মেলনে যোগ নাও দিতে পারেন।
ভারত ও কানাডার মধ্যে সম্পর্কে চিঁড় ধরে গত বছর কানাডায় খলিস্তানপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড ঘিরে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজর কেড়েছিল।
সে সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেছিলেন, নিজ্জার হত্যায় ভারত সরকারের হাত রয়েছে। তবে ভারত সরকার এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করে দেয়।
ওই সময় খলিস্তানপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদে কানাডার মদদের অভিযোগ নিয়ে ভারত এবং কানাডার কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। এরপরই কানাডার জি-৭ সম্মেলনে ভারত ডাক পাবে কি না তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত ট্রুডোর উত্তরসূরি কার্নির আমন্ত্রণ পাওয়ার পর মোদী বলেছেন, ভারত এবং কানাডা পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে নবদ্যোমে একসঙ্গে কাজ করবে।”