জাওয়াহিরিকে হামলাকারী ড্রোনটি ‘উড়েছিল কিরগিজস্তান থেকে’

বেশ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উত্তর কিরগিজস্তানের মানাসে মার্কিন ট্রানজিট স্থাপনা গানসি বিমানঘাঁটি থেকে আল-কায়েদা প্রধানের ওপর হামলা পরিচালিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 August 2022, 11:29 AM
Updated : 4 August 2022, 11:29 AM

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আল-কায়েদা নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরিকে হত্যা করার জন্য পাঠানো মার্কিন ড্রোনটি সম্ভবত কিরগিজস্তানের একটি বিমানঘাঁটি থেকে উড়েছিল।

বুধবার বেশ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন।

সেসব প্রতিবেদনে উত্তর কিরগিজস্তানের মানাসে মার্কিন ট্রানজিট স্থাপনা গানসি বিমানঘাঁটি থেকে আল-কায়েদা প্রধানের ওপর হামলা পরিচালিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কিরগিজস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের একসময়ের সামরিক ঘাঁটি গানসি বিশকেক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত। মার্কিন বিমান বাহিনী পরিচালিত ঘাঁটিটি ২০১৪ সালেই কিরগিজ সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জাওয়াহিরিকে হত্যা করার অভিযানে ড্রোনটি কোথা থেকে রওনা হয়ে কোন পথ ব্যবহার করেছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত মুখ খোলেনি মার্কিন প্রশাসন।

তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কেবল বলা হয়েছে, “কাবুলের শহরতলিতে দিগন্তের প্রান্ত থেকে পরিচালিত অভিযানে জাওয়াহিরি নিহত হয়েছেন, সেখানে তিনি তালেবানের অতিথি হিসেবে ছিলেন। রোববার কাবুল সময় সকাল ৬টা ১৮ মিনিটের দিকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী সুনির্দিষ্ট অভিযানে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র তার বাড়িতে আঘাত হানে।”

যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ বেতার সংবাদ নেটওয়ার্ড ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর মতে, মার্কিন কর্মকর্তারা ড্রোনটি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল সে বিষয়ে কিছু না বললেও কাছাকাছি এলাকায় তাদের কোনো সামরিক ঘাঁটি না থাকায় উড়োযানটিকে সম্ভবত অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

জাওয়াহিরি ওপর ড্রোন হামলায় ‘পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা’ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ‘তুমুল আলোচনা’ চলছে বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটনের ‍উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান।

“পাকিস্তানের ভূমিকা ছিলই তা জোর দিয়ে বলতে পারবো না আমি, আবার একেবারে ছিল না, সেটাও পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছি না,” বলেছেন তিনি।

কুগেলম্যানের মতে, দুই ধরনের সহায়তা করতে পারে পাকিস্তান। আকাশসীমা এবং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে।

“ভূগোল মিথ্যা বলে না। ড্রোনটি যদি উপসাগরের কোনো মার্কিন ঘাঁটি থেকে পাঠানো হয়, সেটি ইরানের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে পারবে না, মধ্য এশিয়ার উপর দিয়ে গেলে আঁকাবাঁকা পথে যেতে হবে, আপনি যদি দ্রুত অভিযানে যান, সেক্ষেত্রে এদিক দিয়ে সফল হওয়া কঠিন।

“এসবই দেখাচ্ছে, পাকিস্তানের আকাশসীমাই গোয়েন্দা তথ্য নেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। আর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এই অভিযানের পরিকল্পনা ও নজরদারি যে কয়েক মাস ধরে চলেছে, তার ইঙ্গিত আছে। এটা কি একা একাই করা সম্ভব, ভূমিতে কারও উপস্থিতি ছাড়া? পাকিস্তান না করলে তালেবানের বিশ্বাসঘাতক সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জাওয়াহিরি বিষয়ে তথ্য দিয়ে থাকতে পারে,” বলেছেন তিনি।

আফগানিস্তানের মধ্য এশীয় প্রতিবেশিরাও যে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে পারে, সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি কুগেলম্যান।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে আফগানিস্তানের প্রতিবেশীদের সহায়তা ছাড়াই সিআইএয়ের ড্রোন হামলা চালানোর সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হয়েছে।

“ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সময় অস্ত্রটির পরিচালক, কখনো কখনো যিনি সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে থাকেন, টার্গেটের একটি লাইভ ভিভিও স্ট্রিম দেখেন। ড্রোনের ক্যামেরা সেন্সরই ওই ভিডিওটি উপগ্রহের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পাঠায়।

“পর্দায় টার্গেট ঠিক করার এক সেট বন্ধনী ব্যবহার করে ক্যামেরা অপারেটর টার্গেটটি ‘লক’ করে দেন এবং টার্গেট বরাবর লেজার তাক করেন। ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর সেটি ওই লেজারের পথ অনুসরণ করে টার্গেটে অঘাত হানে,” বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাওয়াহিরিকে মারতে যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন থেকে আকাশ থেকে ভূমিকে নিক্ষেপযোগ্য হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যেটি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে গত কয়েক দশক নিয়মিত ব্যবহৃত হয়েছে।

“ক্ষেপণাস্ত্রটি হেলিকপ্টার, নানান স্থল যান, জাহাজ, ডানা স্থির এমন বিমান কিংবা জাওয়াহিরির বেলায় যেমনটি ঘটেছে, সেরকম মনুষ্যবিহীন ড্রোনসহ নানান প্ল্যাটফর্ম থেকে ছোড়া যায়,” বলেছে তারা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক