Published : 17 Aug 2025, 06:16 PM
সার্বিয়ায় নতুন করে শুরু হওয়া অস্থিরতার পঞ্চম রাতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা শাসকদল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) একাধিক কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
ভালজেভো শহরে এসএনএসের জনশূন্য কার্যালয়ে মুখোশধারীদের একটি দলের হামলার পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর স্টান গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করেছে, জানিয়েছে বিবিসি।
রাজধানী বেলগ্রেড ও নভি সাদে ব্যাপক সহিংসতা এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠলেও সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা অস্বীকার করেছে।
এ অস্থিরতার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচের প্রতি সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। তারা বলেছে, এমন সময়ে মস্কো ‘প্রতিক্রিয়াহীন থাকতে পারে না’।
গত বছরের নভেম্বরে নভি সাদে একটি রেলওয়ে স্টেশন ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকে বলকান দেশটিতে নিয়মিত সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। স্টেশনে দুর্ঘটনার জন্য অনেকেই ভুচিচের সরকারের দুর্নীতি এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে দায়ী করছেন।
দেশটিতে মাঝে মাঝে হওয়া দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের উপস্থিতি থাকলেও বেশিরভাগ সময় সেগুলো মোটাদাগে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়। কিন্তু বুধবার তেমনটি হয়নি। সেদিন সরকারপন্থি অনেকেও দেশজুড়ে পাল্টা কর্মসূচি পালন করেছে।
শনিবার রাতে বেলগ্রেডসহ একাধিক শহরে আগাম নির্বাচনের দাবিতে হওয়া বিক্ষোভ মোকাবেলায় দাঙ্গা পুলিশ নামাতে হয়েছে। এদিন বিক্ষোভকারীদের রোষের আগুনে পুড়েছে ভুচিচের এসএনএস পার্টির একাধিক কার্যালয় ও পতাকা।
বিক্ষোভকারীরা এসএনএসের জোটসঙ্গী সার্বিয়ান রেডিকাল পার্টির সদরদপ্তরের দরজা-জানালাও ভাঙচুর করেছে।
গত সপ্তাহে দেশটিতে একাধিক বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে অনেকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে ভালজেভোতে পুলিশকে একজনকে পেটাতে দেখা গেছে। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।
শনিবারের বিক্ষোভ ও এসএনএস কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভুচিচ।
ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘সহিংসতা হচ্ছে দুর্বলতার বহিপ্রকাশ’। তিনি ‘গুণ্ডাদের শাস্তি’ দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বারবারই আগাম নির্বাচনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন। তাকে উৎখাতে ‘বিদেশিদের ষড়যন্ত্রের’ অংশ হিসেবেই এসব বিক্ষোভ, অভিযোগ তার।