ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের হামলার প্রতিবাদে রাজধানী সানায় এই বিক্ষোভ-সমাবেশ করে হাজার হাজার হুতিপন্থি।
Published : 12 Jan 2024, 10:03 PM
ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের হামলার প্রতিবাদে রাজধানী সানার রাস্তায় শুক্রবার বিশাল বিক্ষোভ-সমাবেশে নেমেছে হাজার হাজার হুতিপন্থি। তারা ‘খোদা মহান,’ আমেরিকা নিপাত যাক, ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’, ‘ইসলামের জয় হোক’ ধ্বনিতে স্লোগান দিয়েছে।
ইয়েমেনে এমন গণবিক্ষোভ প্রায়ই দেখা গেলেও শুক্রবারের এই বিক্ষোভ-সমাবেশ ছিল অপ্রত্যাশিতরকমের বড়। বিক্ষোভে যোগ দেওয়া হুতি সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য মোহাম্মদ আলি আল-হুতি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে বলেন, “ইয়েমেনে আপনাদের হামলা সন্ত্রাস। যুক্তরাষ্ট্র একটা শয়তান।
“আমরা আমেরিকার উপকূলে আঘাত হানিনি। আমেরিকার দ্বীপপুঞ্জে যাইনি। সেগুলোতেও আমরা আক্রমণ শানাইনি। অথচ আমাদের দেশে আপনারা হামলা চালিয়েছেন। এটি সন্ত্রাস,” বলেন তিনি।
ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন হুতি গোষ্ঠীর কমান্ড সেন্টার, গোলাবারুদের মজুত ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ১৬ টি নিশানায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য হামলা চালানোর পর হুতিরা এর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার এরই মধ্যে করেছে।
এবার ইয়েমেনের রাজধানীতে এই গণবিক্ষোভ করে ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনকে তাদের আগ্রাসনের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে’- সেই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হুতি গোষ্ঠীর এক মুখপাত্র।
লোহিত সাগরে চলাচল করা জাহাজগুলোর ওপর হুতিদের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইয়েমেনের হুতি অবস্থানে হামলা চালায়। ইয়েমেন জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জঙ্গি বিমান, জাহাজ এবং সাবমেরিন থেকে এই হামলা চলে।
হুতি জানিয়েছে, মোট ৭৩ টি বিমান হামলায় তাদের ৫ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তারা এই হামলার জবাব দেবে এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজেও তাদের হামলা বন্ধ হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, “ইয়েমেনের বিভিন্ন নিশানায় হামলা এই স্পষ্ট বার্তাই দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের মিত্ররা আমাদের কর্মকর্তাদের ওপর কোনও হামলা বরদাস্ত করবে না এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ বিনষ্টকারী কোনও বৈরি কর্মকাণ্ডও ঘটতে দেবে না।”
ওদিকে, হুতিরা বলছে, গাজার ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এবং গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে তারা লোহিত সাগরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের ছোড়া ২১টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী। হামলা প্রতিহত করার পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইঙ্গিত দিয়েছিল, তারা হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
হুতিদের এসব হামলা বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোও আহ্বান জানিয়েছিল। হামলা বন্ধ না করলে হুতিরা এর পরিণতি ভোগ করবে বলে হুঁশিয়ার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।