Published : 14 Mar 2026, 11:13 PM
ফিলিস্তিনের ইরানপন্থি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যস্থল না করার জন্য মিত্র তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তবে একইসঙ্গে মার্কিন, ইসরায়েলি হামলার জবাবে তেহরানের আত্মরক্ষার অধিকারের আছে বলে মন্তব্য করেছে।
রয়টার্স লিখেছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে এই প্রথম হামাস প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করল। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হামাস ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত তারা নিজেরা কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, “আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও আইন অনুযায়ী যেকোনো উপায়ে এই আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার যে অধিকার ইরানের রয়েছে, আমাদের সংগঠন তা নিশ্চিত করছে। তবে একই সঙ্গে আমরা ইরানের ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি তারা যেন প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যস্থল না করে।”
বিবৃতিতে সংগঠনটি আরও বলছে, ‘ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রক্ষায়’ এ অঞ্চলের সকল জাতির সহযোগিতা করা উচিত।
বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি মধ্যপ্রাচ্যের সকল দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তেহরান-সমর্থিত হামাসের এ আহ্বানকে ‘বিরল অনুরোধ’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলে লিখেছে বিবিসি।
দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে যৌথ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
গত বছরের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এরপর থেকে সেখানে নিয়মিতভাবে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা কিছুটা কমলেও পরবর্তীতে তা আবারও বাড়তে শুরু করেছে।
এদিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুর দিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলে হামলা শুরু করে লেবাননের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরপর থেকেই ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করছে এবং হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
অন্যদিকে, গাজা যুদ্ধের সময় লোহিত সাগরে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজে সামরিক অভিযান চালানো ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথিরাও তেহরানের প্রতি জোরালো সংহতি প্রকাশ করেছে। তবে তারা এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো হামলার হুমকি দেয়নি।