১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা: ইরানকে সহায়তা দিতে ‘পারেনি’ যুক্তরাষ্ট্র

ইরানি প্রেসিডেন্টের নিহত হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা: ইরানকে সহায়তা দিতে ‘পারেনি’ যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2024, 03:41 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:37 AM

প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পড়ার পর ইরানের জানানো সহায়তার অনুরোধ তারা রাখতে পারেনি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, মূলত ‘লজিস্টিক কারণে’ তারা সাড়া দিতে পারেনি। 

গত রোববার আজারবাইজান সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি বাঁধ প্রকল্প উদ্বোধনের পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তাবরিজে ফেরার পথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি ও তার সফরসঙ্গীরা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসাইন আমির আব্দোল্লাহিয়ানও আছেন তাদের মধ্যে। ঘন কুয়াশার মধ্যে হেলিকপ্টারটি পার্বত্যাঞ্চলে দুর্ঘটনায় পড়ে।

এ ঘটনায় ওয়াশিংটন শোক জানালেও ইরানের বিরল অনুরোধ রাখতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে প্রধান শত্রু বিবেচনা করে ইরান। এই দেশটিই এমন অনুরোধ জানিয়েছিল বলে সোমবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

মন্ত্রণালয়টির মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, “ইরানের সরকার আমাদের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। আমরা তাদের পরিষ্কার করে জানিয়েছি, আমরা সহায়তা দিতাম, এ ধরনের পরিস্থিতিতে একটি বিদেশি সরকারের যে কোনো অনুরোধে আমরা যেমন সাড়া দিয়ে থাকি। শেষ পর্যন্ত, মূলত লজিস্টিক কারণে, আমরা সহায়তা দিতে সক্ষম হইনি।”

রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেটি আগুন পুড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বেল ২১২ হেলিকপ্টারটিতে রাইসি ও আব্দোল্লাহিয়ানের সঙ্গে আরও ছয় যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। রোববার রাতভর তুষার ঝড়ের মধ্যে সন্ধান চালানোর পর সোমবার ভোরে হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। 

কী কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা নিয়ে ইরান সরকারিভাবে এ পর্যন্ত কোনো কিছু জানায়নি। 

এ ঘটনার জন্য তেহরান ওয়াশিংটনকে দায়ী করতে পারে, এ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন কিনা, এমন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, “এই দুর্ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা ছিল না।”  

এরপর তিনি যোগ করেন, “(দুর্ঘটনার) কারণটি কী হতে পারে আমি তা অনুমান করতে পারছি না।”  

হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে ইরানি প্রেসিডেন্টের নিহত হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন অস্টিন।  

তিনি বলেছেন, “এই মুহূর্তে আমি কোনো বৃহত্তর, আঞ্চলিক নিরপত্তা প্রভাব দেখতে পাচ্ছি না।”  

বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতবিরোধ বাড়তে থাকার মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাটি ঘটল। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচী ও ইউক্রেইন যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের বাড়তে থাকা সামরিক সখ্যতা নিয়ে ইরানের শাসকরা আন্তর্জাতিকভাবে চাপে আছেন।   

আরও পড়ুন: 

আমরা জড়িত নইরাইসির মৃত্যু নিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তা

রাইসির নিজ শহরে মঙ্গলবার যাবে তার মৃতদেহতদন্তের নির্দেশ