Published : 14 Oct 2025, 03:01 PM
জেন জি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভের পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন আফ্রিকার দেশ মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা।
সোমবার দেশটির বিরোধীদলীয় প্রধান, সামরিক একটি সূত্র ও একজন বিদেশি কূটনীতিক রয়টার্সকে ঘটানটি জানিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী জেন জি অস্থিরতার মধ্যে মাত্র এক মাস আগে তরুণ প্রতিবাদকারীদের বিক্ষোভের মুখে নেপালে সরকারের পতন ঘটে, এবার আরেকটি দেশের সরকারের পতন ঘটল।
মাদাগাস্কার পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেতা সিতেনি রান্দ্রিয়ানাসোলোনাইকো রয়টার্সকে বলেছেন, সেনাবাহিনীর কয়েকটি ইউনিট পক্ষ ত্যাগ করে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর রোববার রাজোয়েলিনা দেশ ছাড়েন।
তিনি বলেন, “আমরা প্রেসিডেন্ট দপ্তরের কর্মীদের ফোন করেছিলাম। তারা নিশ্চিত করেছে যে তিনি দেশ ছেড়ে গেছেন।”
তবে রাজোয়েলিনা কোথায় গেছেন তা জানা যায়নি, জানিয়েছেন তিনি।
রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তাদের জানানো অনুরোধে প্রেসিডেন্ট দপ্তর সাড়া দেয়নি।
সোমবার রাতে ফেইসবুকে সম্প্রচারিত জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে রাজোয়েলিনা জানিয়েছেন, নিজের জীবন রক্ষা করতে তাকে একটি নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হয়েছে। তবে তিনি কোথায় আছেন তা প্রকাশ করেননি।
ভাষণে পদত্যাগের বা ক্ষমতা ছাড়ার কোনো কথা বলেননি তিনি। বরং বলেছেন, “মাদাগাস্কারকে ধ্বংস হতে দেবেন না তিনি।”
এই ভাষণের পর ওই কূটনৈতিক সূত্রটি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রাজোয়েলিনা পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন।

সামরিক একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রোববার ফ্রান্সের সামরিক বাহিনীর একটি আকাশযানে করে রাজোয়েলিনা মাদাগাস্কার ছেড়ে যান।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রায়ত্ত বেতার রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল (আরএফআই) জানিয়েছে, রাজোয়েলিনা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে একটি চুক্তি করেছেন।
মাদাগাস্কার এক সময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল।
মিশরে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে একটি সম্মেলনের পর মাক্রোঁ রয়টার্সকে জানান, ফ্রান্স রাজোয়েলিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে সাহায্য করেছে, এমন খবর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারছেন না।
তিনি যোগ করেন, মাদাগাস্কারে অবশ্যই সাংবিধানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। ফ্রান্স দেশটির তরুণদের অভিযোগগুলো বুঝতে পারলেও সামরিক বাহিনীর উপদলগুলোর এই পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া উচিত হবে না।
মাদাগাস্কারের ওই সামরিক সূত্রটি জানিয়েছে, রোববার ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর একটি কাসা বিমান মাদাগাস্কারের সেইন্ট মেরি বিমানবন্দরে এসে নামে।
“পাঁচ মিনিট পর, একটি হেলিকপ্টার এসে নামে আর এর যাত্রীকে ওই কাসা বিমানে তুলে দেওয়া হয়,” বলেন তিনি। রাজোয়েলিনাই ‘ওই যাত্রী’ ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
২৫ সেপ্টেম্বর পানি ও বিদ্যুৎ সঙ্কট নিয়ে মাদাগাস্কারে প্রতিবাদের সূচনা হয়। কিন্তু দ্রুতই তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। তরুণরা দুর্নীতি, অপশাসন ও মৌলিক পরিষেবাগুলোর অভাবের মতো অভিযোগ নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে শাসক অভিজাত শ্রেণির বিরুদ্ধে তরুণদের এ ধরনের বিক্ষোভ দেখা গেছে। গত মাসে নেপালের তরুণ আন্দোলনকারীরা দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছেন। তরুণদের একই ধরনের বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে আফ্রিকার আরেক দেশ মরক্কো।