Published : 13 Oct 2025, 09:12 PM
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে দেওয়া ভাষণে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার ভয়াবহতার কথা স্মরণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ওই হামলাকে “হলোকাস্টের পর ইহুদিদের ওপর অন্যতম ভয়াবহ বর্বরতা” বলে বর্ণনা করেছেন।
ইসরায়েলকে নতুন করে সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “জেনে রাখবেন, আপনাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আছে সেই দুই অটল শপথে—‘কখনও ভুলব না’ এবং ‘কখনও হতে দেব না’।’’
তিনি বলেন, “ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক দুঃস্বপ্ন এখন শেষ। এটি ইসরায়েল এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এক নতুন উদ্দীপনার সময়।”
সোমবারের এই ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, “দশকের পর দশক ধরে এই অঞ্চলে যে বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস আর ধ্বংসের ছায়া ছিল, তা এখন দুর্বল, বিচ্ছিন্ন ও পরাজিত। সভ্যতার শত্রুরা এখন পিছু হটছে—আমাদের কারণেই।”
ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার—যিনি “ইসরায়েলকে ভালোবাসেন”—এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথকে ধন্যবাদ জানান।
“আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন অসাধারণ দক্ষ কিছু মানুষ,” বলেন ট্রাম্প।
ইসরায়েলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিবি (নেতানিয়াহু) আমাকে অসংখ্যবার ফোন করতেন অস্ত্র চেয়ে। এতবার যে ইসরায়েল হয়ে উঠল শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান—আর সেই শক্তিই শান্তি এনেছে।”
ট্রাম্প বলেন, চলতি বছর ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা না হলে এই শান্তিচুক্তি সম্ভব হত না। “আমরা মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলের ওপর থেকে এক বিশাল অন্ধকার মেঘ সরিয়ে দিয়েছি,” বলেন তিনি।
“ইসরায়েল আমাদের সহায়তায় যা জেতার সবই জিতেছে,” বলেন ট্রাম্প, “এখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির সময়।”
ট্রাম্প জানান, এদিনই তিনি মিশরে যাচ্ছেন, যদিও “ইসরায়েলি নেতাদের দীর্ঘ বক্তৃতার কারণে” তার দেরি হচ্ছে বলে রসিকতা করেন।
মিশরের শার্ম এল শেখে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। প্রায় ২০ দেশের নেতা, এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও থাকবেন সেখানে।
“আমরা দেখিয়েছি, শান্তি কেবল স্বপ্ন নয়—এটি প্রতিদিন গড়ে তোলা বাস্তবতা,” বলেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, আরও অনেক আরব দেশ যুক্তরাষ্ট্র-উদ্যোগে হওয়া ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেবে বলে তার আশা।
“বিশ্ব আবার ইসরায়েলকে ভালোবাসতে শুরু করেছে,” বলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের বক্তব্যে সবচেয়ে জোরালো করতালি পড়ে যখন তিনি বলেন, প্রায় পুরো অঞ্চলই গাজাকে অ-সামরিকীকরণ ও হামাসকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনাকে সমর্থন দিয়েছে—যদিও এই পরিকল্পনার বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে এবং হামাস তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি বলেন, “ইসরায়েল যা জেতার জিতে নিয়েছে, বলপ্রয়োগে আর কিছু পাওয়ার নেই।”
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “শত্রুতা ভুলে সুযোগ ও সমৃদ্ধির পথে হাঁটুন। অস্ত্র বানানোর বদলে বিনিয়োগ করুন স্কুল, চিকিৎসা, শিল্প আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায়।”
“এমনকি ইরানের প্রতিও, যে দেশ এত মৃত্যু এনেছে এই অঞ্চলে—সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো হচ্ছে,” বলেন তিনি।
নেতানিয়াহুর জন্য ‘ক্ষমা’র আহ্বান
ট্রাম্প স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করেছিলেন।
এরপর তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজগকে অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘ক্ষমা’ করতে—“গাজার যুদ্ধের সময়কার তার নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে।”
“এই মানুষটি (নেতানিয়াহু) অন্যতম সেরা যুদ্ধকালীন নেতা,” বলেন ট্রাম্প। “আর সিগার আর শ্যাম্পেন নিয়ে কে মাথা ঘামায়? আজকের মতো বিতর্ক যথেষ্ট!”
(নেতানিয়াহু বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন, যেখানে তার বিরুদ্ধে দামি উপহার নেওয়া ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।)
‘আমি ইসরায়েলকে ভালোবাসি’
বক্তৃতার শেষাংশে ট্রাম্প বলেন, “আধুনিক ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তার পাশে আছে—বিজয় আর পরাজয়ে, সাফল্য আর দুঃখে। আমরা একসঙ্গে শিল্প গড়েছি, আবিষ্কার করেছি, অশুভের বিরুদ্ধে লড়েছি, যুদ্ধ করেছি—আর সবচেয়ে বড় কথা, আমরা একসঙ্গে শান্তি এনেছি।”
“এই সপ্তাহে, অসম্ভবকে সম্ভব করে আমরা আমাদের বন্দিদের ঘরে ফিরিয়ে এনেছি,” বলেন তিনি।
রুদ্ধশ্বাস করতালির মধ্য দিয়ে তার বক্তব্য শেষ হয়। ট্রাম্প বলেন, “আমি ইসরায়েলকে ভালোবাসি, আর সবসময় আপনাদের পাশে আছি।”