১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে’ আত্মসমর্পণের আহ্বান ট্রাম্পের

মার্কিন প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ‘ব্যাকচ্যানেলে’ সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে’ আত্মসমর্পণের আহ্বান ট্রাম্পের
ইরানের রাজধানী তেহরানের রাস্তায় যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী একটি বিলবোর্ড। ফাইল ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2026, 01:10 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:58 PM

ওয়াশিংটন ও তেহরানের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুদ্ধ শেষ করার কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ছাড়াই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।  

সোমবার ফোনে ফক্স নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “ইরানের উচিত আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা উত্তোলন করা।”  

এদিন হোয়াইট হাউজের ওভাল দপ্তরে ট্রাম্পকে বিবিসি নিউজ জিজ্ঞেস করে, তিনি যুদ্ধবিরতি চুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর চেষ্টা করবেন কি না, উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “না।”

তবে তার প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ব্যাকচ্যানেলে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করছে বলে দাবি করেন তিনি। 

তিনি আইআরজিসিকে ‘ভালে পোকার খেলোয়াড়’ যারা ‘মারা যাচ্ছে’ বলে বর্ণনা করেন। কিন্তু ট্রাম্প জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, সংঘাত শেষ করার জন্য তার কোনো তাড়া নেই। 

তিনি বলেছেন, “আমার কোনো সময়সূচী নেই। আমার কোনো তাড়া নেই।” 

আল জাজিরা লিখেছে, ইরান যুদ্ধের উপর থেকে ট্রাম্প উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন, যা নভেম্বরে হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দল রিপাবলিকান পার্টির সমর্থনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। 

‘তাদের সঙ্গে ব্যাকচ্যানেলে যোগাযোগ হচ্ছে,’ ট্রাম্পের এমন দাবির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেববি সোমবার বলেছেন, ““আমেরিকানদের সঙ্গে আইআরজিসির কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। আর ট্রাম্পের এই মিথ্যা কেবল সেই বিভ্রম ও দুঃস্বপ্নের ফল, যা তিনি যুদ্ধে পরাজয় ও চরম হতাশার কারণে ভোগ করছেন।”

তিনি আরও বলেছেন, “ট্রাম্পের কল্পনা তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো সাহায্য করবে না। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সাময়িকভাবে বৈশ্বিক তেল ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। তার সামনে শুধু একটি পথই খোলা রয়েছে আর তা হল, পরাজয় মেনে নেওয়া ও ইরানের নির্ধারিত শর্ত বাস্তবায়ন করা।”