Published : 10 Apr 2026, 12:31 PM
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দলের নেতা চেং লি-উন’কে বেইজিংয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।
তাইওয়ানের কোনো রাজনীতিকের সঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্টের বিরল এ বৈঠকে উভয় পক্ষই তাইওয়ান প্রণালির এপার-ওপারের সম্পর্কে শান্তি প্রতিষ্ঠার জোর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।
এক দশকের মধ্যে চেং-ই হলেন কুওমিনতাংয়ের (কেএমটি) প্রথম প্রধান যিনি চীন সফর করছেন, বলেছে বিবিসি।
তাইওয়ানে ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) সাই ইং-ওয়েন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০১৬ সালে বেইজিং স্বশাসিত দ্বীপটির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সাই ‘এক চীন’ নীতিকে স্বীকৃতি দিতে রাজি না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেয় তারা।
চেং’কে বেইজিংয়ের ‘অনুগত’ আখ্যা দিয়ে তার সফরের সমালোচনা যারা করছে, তাদের মধ্যেও ডিপিপি আছে।
চীন তাইওয়ানকে তার নিজের ভূখণ্ডের অংশ মনে করে। দ্বীপটিকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করতে ‘প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের’ সম্ভাবনাও খারিজ করছে না তারা।
“আমাদের দুজনেরই মাতৃভূমির শান্তি ও স্থিতিশীলতার সুরক্ষায়, দুই পারের সম্পর্কের শান্তিপূর্ণ অগ্রগতি এগিয়ে নিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি উজ্জ্বল ও সুন্দর ভবিষ্যৎ ভাগাভাগি করে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে আজ আমাদের দুই দলের নেতারা বৈঠক করছেন,” শুক্রবার চীনের গ্রেট হল অব্য দ্য পিপলে বৈঠকে এমনটাই বলেন শি।
তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদ বিরোধিতার অভিন্ন রাজনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে চীন কেএমটিসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংলাপ ও যোগযোগ জোরদারে আগ্রহী বলেও তিনি জানান।
শি জোরের সঙ্গে বলেন, তাইওয়ান প্রণালির দুই পাশের লোকজনই চীনা, এবং তারা শান্তি চায়।
এর প্রত্যুত্তরে চেং বলেন, চীনা জাতির পুনরুজ্জীবন তাইওয়ান প্রণালির উভয় পাশের মানুষের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা।
এ আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলে তা ‘বিশ্ব শান্তি ও মানবিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে’, বলেছেন কেএমটি প্রধান।
তাইওয়ানের এ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আগে থেকেই চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে চেংয়ের মতো তার পূর্বসূরীরা চীন সফরে খুব একটা ব্যাকুল ছিলেন না, তারা তাইওয়ান প্রণালির এপার-ওপারের সম্পর্ক বিষয়ে সবসময় সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতেই পছন্দ করতেন, বলছেন অনেক বিশ্লেষক।
বেইজিং তাইওয়ানের এখনকার প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে’র সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপে নারাজ, তারা লাই’কে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ তকমা দিয়ে রেখেছে।
লাই বলছেন, তিনি তাইওয়ান প্রণালির এপার-ওপারের সম্পর্কে ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখতে চান। তবে চীনের কর্তৃপক্ষ ও দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো নিয়মিতই তাকে ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’, ‘যুদ্ধবাজ’ আখ্যা দিয়ে আসছে।
স্বশাসিত তাইওয়ানের জনগণের একটা অংশ নিজেদের ‘সার্বভৌম দেশ’ মনে করলেও অনেকে এ প্রসঙ্গে এখনকার ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখতেই আগ্রহী। চীনের সঙ্গে একীভূত হওয়া অথবা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করা—এর কোনোটাই চায় না তারা।