Published : 31 Jul 2025, 01:22 AM
হাইতির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ফ্রান্স যে ‘স্বাধীনতার ঋণ’ আদায় করেছিল সেই অর্থ দেশটিকে ফেরত দেওয়ার দাবিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে চিঠি দিয়েছে ৬০টিরও বেশি মানবাধিকার সংগঠন।
মঙ্গলবার মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, “সম্পত্তি এবং দাস হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসাবে হাইতির কাছ থেকে ফ্রান্স যে বিপুল অঙ্কের অর্থ (১৫ কোটি গোল্ড ফ্রাঙ্ক) নিয়েছিল, তা হাইতির অর্থনীতিকে কয়েক দশক পিছিয়ে দেয় এবং বিদেশি সাহায্যনির্ভরতা ও ঋণের দুষ্টচক্রে ফেলে দেয়।”
ফ্রান্স হাইতিকে ১৮২৫ সালে তাদের স্বাধীনতা লাভের পর এই ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করেছিল, যা ছিল দেশটির বার্ষিক রাজস্ব আয়েরও বহুগুণ বেশি। ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য হাইতিকে ফ্রান্সের ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ নিতেও বাধ্য করা হয়েছিল
ফ্রান্সের রাজা দশম চার্লস হাইতির কাঁধে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্স ডেট’ নামের এই জবরদস্তিমূলক ক্ষতিপূরণের দায় চাপান। এই অন্যায় বিবেকহীন ঋণ হাইতির মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শোধ করেছে। হাইতি একে ‘র্যানসম’ বলে উল্লেখ করে, যা সুদসহ একশ বছর ধরে তাদেরকে পরিশোধ করে আসতে হয়েছে।
এই ‘র্যানসম’ এর অধীনে যে সম্পদ লুটে নেওয়া হয়েছিল, তা হাইতির জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে বহু দশক পিছিয়ে দেয়। আজও এর ফলে দেশটি গভীর ঋণের জালে এবং সাহায্যনির্ভরতায় আটকে আছে।
“এই অন্যায়ের স্বীকৃতি ও প্রতিকার দেওয়ার সময় ফ্রান্সের জন্য অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে,” বলা হয় মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর চিঠিতে। হাইতির মানবাধিকার কর্মীরা ক্ষতিপূরণ হিসাবে কোটি কোটি ডলার দাবি করার পর ম্যাক্রোঁকে এই চিঠি দেওয়া হল।
চিঠিতে যেসব মানবাধিকার গোষ্ঠী সই করেছে তাদের মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রবাসী ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সক্রিয় গোষ্ঠীগুলো।
গত এপ্রিলে ম্যাক্রোঁ বলেন, হাইতির সঙ্গে ফ্রান্সের ‘বেদনাদায়ক অতীত’ পর্যালোচনায় একটি যৌথ কমিশন গঠিত হবে। তবে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে গেছেন তিনি।
হাইতির সংস্কৃতি ও যোগাযোগমন্ত্রী প্যাট্রিক ডেলাতুর মে মাসে ফ্রান্স সফর শেষে জানিয়েছিলেন, ইতিহাসবিদদের সমন্বয়ে গঠিত কমিশনের কাজ জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা এবং এই কমিশনকে ঋণের পরিণতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার পথ সুগম করা।
হাইতির ক্ষতিপূরণের অর্থ দাবির পেছনে রয়েছে ক্যারিবীয় আঞ্চলিক জোট ‘কারিকম’-এরও সমর্থন। তারা আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে মিলে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেতে কাজ করছে।
ক্ষতিপূরণের আওতায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অর্থ এবং হাইতির ঋণ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।