Published : 12 Feb 2026, 10:31 AM
কানাডার ওপর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ।
ব্যবধান সামান্য হলেও দেশটির পার্লামেন্টের এ নিম্নকক্ষে রিপাবলিকানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ; তবে এ ভোটের সুবাধে দলের শীর্ষ নেতা ও প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের একটি অংশের বিরল বিরোধিতা দেখা গেল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, কানাডার পণ্যে শাস্তিমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা নিতে ট্রাম্প যে ‘জরুরি অবস্থার’ দ্বারস্থ হয়েছিলেন তা খারিজে আনা প্রস্তাবটি বুধবার ২১৯-২১১ ভোটে গৃহীত হয়। এদিন ৬ রিপাবলিকান প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট দেন এক ডেমোক্র্যাট।
ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮টি আসনের নিয়ন্ত্রক। ডেমোক্র্যাটরা ২১৪টির। নিম্নকক্ষের এই প্রস্তাব উচ্চকক্ষ সেনেটেও পাস হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেখানেও ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা বেশি আসনের মালিক, তা সত্ত্বেও সেনেট দুইবার ট্রাম্পকে কানাডার ওপর শুল্ক আরোপে বাধা দিয়েছিল।
দুই কক্ষে গৃহীত হলেও এই প্রস্তাবের আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, ট্রাম্পের ভিটো, যা টপকাতে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু রিপাবলিকানদের সিংহভাগই ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতায় নারাজ।
ট্রাম্পের শুল্কে আইনি প্রতিবন্ধকতা ঠেকাতে রিপাবলিকান নেতাদের নেওয়া এক উদ্যোগও প্রতিনিধি পরিষদে একদিন আগে পরাজিত হয়েছিল। সেদিনও তিন রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন।
কংগ্রেসের অনেক সদস্যই এখন বিভিন্ন দেশের ওপর দেওয়া ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাবে মার্কিন ক্রেতাদের যে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে তা নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করে আসছেন।
‘কানাডা হুমকি নয়’
কানাডার ওপর আরোপিত শুল্ক বাতিলের পক্ষে আনা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন নিউ ইয়র্কের প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস। মার্কিন পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই বিলটি আনা হয়েছে বলে তিনি জানান। কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের যুক্তি হিসেবে ট্রাম্প যে মাদক সংক্রান্ত জাতীয় জরুরি অবস্থার কথা বলেছিলেন, মিকস তা প্রত্যাখ্যানও করেন।
“কানাডা হুমকি নয়, কানাডা আমাদের বন্ধু, আমাদের মিত্র,” ভোটের আগে করা বক্তৃতায় এমনটাই বলেন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মিকস।
ট্রাম্প এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, কংগ্রেসের কোনো কক্ষের রিপাবলিকান সদস্য যদি শুল্কের বিরুদ্ধে ভোট দেয় তাহলে তাকে ‘নির্বাচনের সময় গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে’।
তিনি কানাডাকেও এক হাত নিয়েছেন। বলেছেন, প্রতিবেশী দেশটি বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে।
কানাডার মতো মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপে ট্রাম্প যে একের পর এক নির্বাহী আদেশকে ব্যবহার করছেন, কংগ্রেসের অনেক সদস্য এরও বিরোধী। তাদের ভাষ্য, মার্কিন সংবিধান শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসকে দিয়েছে, প্রেসিডেন্টকে নয়।
গত মাসে ইয়েল বাজেট ল্যাব বলেছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া শুল্কের কারণে প্রত্যেক মার্কিন পরিবারের বছরে গড়ে এক হাজার ৪০০ ডলারের মতো অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
দিনকয়েক আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দলনিরপেক্ষ ট্যাক্স ফাউন্ডেশনও জানিয়েছে, শুল্ক ২০২৫ সালে মার্কিন পরিবারগুলোর কাছ থেকে গড়ে এক হাজার ডলার কেড়ে নিয়েছে বলে তাদের হিসাব। এ বছর ওই অতিরিক্ত খরচ বেড়ে এক হাজার ৩০০ ডলারে দাঁড়াবে বলে তাদের অনুমান।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েকদিন পরই ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে শুল্ক যুদ্ধে নেমে পড়েন। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কানাডার পণ্যে ২৫% শুল্ক বসান। অগাস্টে এক নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির বাইরে থাকা সব পণ্যে ওই শুল্ক বাড়িয়ে ৩৫% করেন তিনি।
কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে বিপজ্জনক মাদক ফেন্টানিলের পাচার ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সেসময় যুক্তি দিয়েছিল ট্রাম্পের প্রশাসন। কিন্তু কানাডার সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলছে, কানাডা দিয়ে যেটুকু ফেন্টানিল ঢোকে, তা যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা মোট ফেন্টানিলের ১ শতাংশেরও কম।