Published : 21 Nov 2025, 12:18 PM
সম্মেলনস্থলে আগুন লাগার ঘটনায় ব্রাজিলে কপ৩০ এর আলোচনায় ব্যাঘাত ঘটেছে, সেসময় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা জলবায়ু পরিবর্তনরোধে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদারে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার এ ঘটনার আগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সম্মেলনে উপস্থিতদের বিশ্বকে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে আনা নিয়ে যে বিতর্ক তার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার তাগাদা দিয়েছিলেন।
আমাজন সংশ্লিষ্ট শহর বেলাঁতে হওয়া সম্মেলন শেষ করার নির্ধারিত সময় শুক্রবার; কিন্তু এর মধ্যে প্রায় দুইশ দেশের প্রতিনিধিদের সমঝোতায় পৌঁছার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আয়োজক দেশ ব্রাজিল চুক্তিতে আন্তর্জাতিক জলবায়ু উদ্যোগ ত্বরান্বিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ রাখতে চাইছে, যাতে কপ সম্মেলনগুলোতে দশকের পর দশক ধরে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যায়।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ভিডিওতে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের খাবারের কিছু সময় পর এক প্রদর্শনী প্যাভিলিয়নে আগুন লাগে, পরে দ্রুতই তা ভবনের ভেতরের দেয়াল ও ছাদকে ঢেকে রাখা কাপড়ের আস্তরণে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।
নাকে-মুখে ধোঁয়া ঢোকা ১৩ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, বলেছে আয়োজকরা।
মাইক্রোওয়েভের মতো কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছে স্থানীয় দমকল বিভাগ।
ছয় মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তার মধ্যেই নিরাপত্তাকর্মীরা হলওয়ের চারপাশে মানবঢাল তৈরি করে হাজার হাজার প্রতিনিধিদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেন।
সম্মেলনে উপস্থিত দেশগুলোর মধ্যে জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধি ও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসাসহ নানান বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রতিনিধিরা নিজেরাই বুধবার পর্যন্ত সময় নিয়েছিলেন, কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
বৃহস্পতিবার ব্রাজিল কয়েক দেশের সরকারের কাছে কপ৩০ চুক্তির কিছু অংশের একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে, তবে তাতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার রোডম্যাপ ছিল না।
রয়টার্সের দেখা ওই খসড়া প্রস্তাবে ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু অভিযোজনে অর্থায়ন ২০২৫ এর চেয়ে তিনগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই অর্থ কি ধনী দেশগুলো সরাসরি সরবরাহ করবে নাকি ব্যাংক ও বেসরকারি খাতকেও এখানে যুক্ত করা হবে তা স্পষ্ট নয়।
খসড়া নিয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্স ব্রাজিলের কপ৩০ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে জবাব পায়নি।
আলোচকদের অনেকে জানিয়েছেন, আগুনের কারণে সম্মেলনস্থল খালি করে ফেলার আগ পর্যন্ত তারা খসড়াটি নিয়ে কাজ করছিলেন।
তবে কেউ কেউ বলছেন, খসড়া প্রস্তাবটি তারা এখনও পাননি।
কপ সম্মেলনে প্রায়ই প্রেসিডেন্টের কার্যালয় প্রথমে অল্প কিছু দেশের সঙ্গে খসড়া নিয়ে আলোচনা করে, এরপর চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনায় সবাইকে ডেকে আনা হয়।