এবার ইউরোপীয় সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণা ইরানের
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-কে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারই পাল্টা পদক্ষেপে ইরানের এই ঘোষণা।
তিনদিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যে পদক্ষেপ নিয়েছিল তার বদলা নিল ইরান। ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণা করল দেশটি।
গত বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-কে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারই পাল্টা পদক্ষেপে রোববার ইরানের এই ঘোষণা।
দেশের আইন উল্লেখ করে এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, “আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে, আইনের ৭ নম্বর ধারার আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনী এখন থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য হবে।”
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে সরকারের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলেছে, তা কঠোর ভাবে দমন করেছে রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী। এই দমন-পীড়নের বিরোধিতা করেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইরানের এই বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী’ তালিকাভুক্ত করেছিল।
ইরানের স্পিকার পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়ার পর বলেন, “রেভল্যুশনারি গার্ডের ওপর আঘাত হানতে গিয়ে ইউরোপীয়রা মূলত নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মেরেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে তারা আরও একবার নিজেদের জনগণের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই বছর ইরানে শাহ শাসনের পতন ঘটায় ইসলামিক বিপ্লবীরা। এরপর এই অর্জন রক্ষায় তৈরি করা হয় রেভল্যুশনারি গার্ড।
এই গোষ্ঠী ইরানের নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করে। তবে ইরানের প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক কার্যক্রম, আঞ্চলিক প্রভাবের ক্ষেত্রেও রেভল্যুশনারি গার্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
দীর্ঘ দিন ধরেই রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্ঘাত প্রকট। এই বাহিনীর প্রধান কাশেম সোলেমানিকে ২০২০ সালের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হত্যা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসবাদী তকমা’ দেওয়ায় এখন জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট্স-এর কাতারে চলে এসেছে ইরানের এই বাহিনী। রোববার এই পাল্টা জবাব দিল ইরানও।
সূত্র: আল-জাজিরা
