Published : 20 Jan 2026, 04:46 PM
ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তাদের সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র রাজ্য বিহারের স্বল্প পরিচিত একজন বিধায়ককে বেছে নিয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হয়েছেন দলটির ইতিহাসে সর্বনিষ্ঠ সভাপতি।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দলটির এ পদক্ষেপকে তরুণ ভোটারদের ধরে রাখার প্রচেষ্টায় একটি প্রজন্মগত পরিবর্তন বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।
মঙ্গলবার সকালে নয়া দিল্লিতে বিজেপির সদরদপ্তরে বিদায়ী সভাপতি জে. পি. নাড্ডার (৬৫) হাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির দায়িত্ব নেন নিতিন নবীন (৪৫) ।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নবীন সোমবার সন্ধ্যায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির ১২তম সভাপতি নির্বাচিত হন। বিহারের সাবেক মন্ত্রী ও পাঁচবারের বিধায়ক নবীনকে ডিসেম্বরে বিজেপির কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে ধারণা করা হচ্ছিল, তিনিই হবেন দলটির পরবর্তী সভাপতি।
সামনে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচত অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে অপেক্ষাকৃত তরুণ এক রাজনীতিককে সভাপতি হিসেবে বেছে নিল বিজেপি। মোদী ও বিজেপির অন্য জ্যেষ্ঠ নেতারা পরবর্তী সভাপতি হিসেবে নবীনের নাম প্রস্তাব করার পর দলের আর কেউ তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেননি।
বিজেপির সদরদপ্তরে নবীনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দলটির কয়েকশ কর্মীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদী ও দলটির সাবেক চার সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।
তিন বছরের জন্য বিজেপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়া নবীনের দিকে নির্দেশ করে মোদী (৭৫) বলেন, “যখন পার্টির বিষয়টি আসবে তখন আমি একজন কর্মী আর তিনি (নবীন) আমার বস।”
তার নিজের বক্তব্যে নবীন বার বার মোদীর প্রশংসা করেন ও তাকে ‘প্রজন্মের পথপ্রদর্শক’ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। নবীন তরুণদের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।
ভারতের নির্বাচন কমিশন ও বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির শত কোটি ভোটারের মধ্যে ৪০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে।
মোদীর দল বিজেপি ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পরও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা হারিয়ে একটা হোঁচট খায়। সরকার গঠন করতে তাদের জোটের শরীকদের ওপর নির্ভর করতে হয়।
অবশ্য তারপর থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জয়ী হয়ে পরিস্থিতিকে আবার নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসতে সক্ষম হয় তারা। বিজেপি ও তাদের শরিক দলগুলো ভারতের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ১৯টিতে ক্ষমতাসীন আছে।