Published : 23 Mar 2026, 07:26 PM
বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দীর্ঘ ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ধর্মঘটে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন’ (এবিসি)’র কর্মীরা।
বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১ টা থেকে ২৪ ঘন্টার এই ধর্মঘট শুরু হবে। এর ফলে সংস্থাটির সরাসরি টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচার ব্যাপভাবে ব্যহত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবিসি লিখেছে, কর্তৃপক্ষের দেওয়া তিন বছরে মোট ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব এবিসি-র ৬০ শতাংশ কর্মীই প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম বছর ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী দুই বছর ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে বেতন বাড়ানোর কথা ছিল।
তবে গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ায় বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, যা প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির চেয়ে বেশি।
এবিসি-র প্রায় ৪,৫০০ কর্মীর মধ্যে ৭৫ শতাংশ গত রোববার বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর ভোট দেন। ইউনিয়নের দাবি, এই প্রস্তাব অত্যন্ত নগণ্য এবং এটি প্রজনন স্বাস্থ্য ছুটি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের মতো উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।
সাংবাদিকদের ইউনিয়ন ‘মিডিয়া, এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড আর্টস অ্যালায়েন্স’-এর প্রতিনিধি মাইকেল স্লেজাক বলেন, “আমরা এমন কোনও চুক্তি মেনে নিতে পারি না যা সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেয়, মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় বেতন কম দেয় এবং সাংবাদিকদের পরিবর্তে রোবট বসানোর সুযোগ করে দেয়।”
‘নন-জার্নালিস্টস কমিউনিটি অ্যান্ড পাবলিক সেক্টর ইউনিয়ন’ (সিপিএসইউ)- এর জসিলিন জামিনি বলেন, এবিসি একটি ‘ন্যায্য প্রস্তাব’ না দেওয়া পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়াটা ‘অবশ্যম্ভাবী’।
অন্যদিকে, এবিসি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিউ মার্কস জানিয়েছেন, তারা বেতন বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটি সর্বোচ্চ মাত্রার এবং সব দিক বিবেচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাবই দেওয়া হয়েছে।
বিরোধ মেটাতে এবিসি এখন অস্ট্রেলিয়ার কর্মক্ষেত্র বিষয়ক ট্রাইব্যুনাল ‘ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন’-এর সহায়তা চাইবে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালে বেতন ও চাকরির শর্তাবলী নিয়ে এবিসি কর্মীরা ধর্মঘট করেছিলেন।