Published : 06 Aug 2025, 10:27 AM
কিছু দেশের নাগরিকদের পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসা আবেদনের জন্য ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড চাইতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমনই একটি কর্মসূচি চালু করতে চলেছে দেশটি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর জানিয়েছে, ১২ মাস মেয়াদী এই পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে বিশেষত সেইসব দেশের জন্য, যেখানে ‘স্ক্রিনিং বা তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ায় ঘাটতি’ রয়েছে বা যেসব দেশের নাগরিকরা ভিসার মেয়াদ শেষের পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, কোন কোন দেশের নাগরিকদের ওপর এই নিয়ম প্রয়োগ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে কেবল বলা হয়, “যেসব বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক কাজের জন্য সাময়িক ভ্রমণ (বি১) কিংবা পর্যটন (বি২) ভিসার জন্য আবেদন করবেন এবং যেসব দেশ থেকে আসা নাগরিকদের ভিসার অতিরিক্ত মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার হার বেশি, যেসব দেশে স্ক্রিনিং ও যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা দুর্বল কিংবা বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে তারা এই পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় পড়তে পারে।”
এইসব দেশের নাগরিকরা ভিসা পেতে চাইলে শর্ত হিসাবে তাদেরকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড কনস্যুলার অফিসে জমা দিতে হতে পারে। বন্ডের এই অঙ্ক কনস্যুলার কর্মকর্তাদেরই নির্ধারণ করা থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসন রোধের নীতি আরও জোরদার করতে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছে। ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই এ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে সই করেন।
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকটি মানবিক অভিবাসন কর্মসূচি বাতিল করেছে, যেগুলোর আওতায় কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।
তাছাড়া, ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং আরও ৭টি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তার সরকার।
এছাড়া, শত শত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে অনেকে বিনা নোটিশে আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছে অভিবাসন আইনজীবীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যেসব ব্যক্তি দেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের টার্গেট করেই এই উদ্যোগ।
অনেক ক্ষেত্রে এসব পদক্ষেপের পেছনে ওইসব ব্যক্তির কোনও রাজনৈতিক বা ফিলিস্তিনপন্থি কার্যকলাপ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে অপরাধমূলক রেকর্ড বা সাধারণ আইন লঙ্ঘনের ঘটনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।